তানজিন তামান্না অর্ণা এর কবিতা

49

নান্দনিক শৈল্পিকতায় উদ্বাস্তু চরিত্র

আমি নারী আমি জানি ;
তোমরা শৃঙ্গার কর আমাকে
কোন নতুনত্বে…??
দোয়াতের কালির কলংকিত কালো দাগে
অক্ষরের আক্ষরিক শব্দার্থে,
তোমাদের বর্ণনায় আমি রহস্যময়ী।
ভেজা চঞ্চুর তৃষ্ণার্ত মোহে
শিল্পীর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ;
মাংসল শরীরে উঁচুনিচু খাঁজে
হিমাদ্রীর যৌবন নির্গত,
যার অতলে হারিয়ে যায়
সকল উন্নত মস্তিষ্ক ;
ডুবন্ত ডুবুরির জল সিঞ্চনে
উন্মাদনার চরম শিখরে…
হয় সবে মত্ত।
সুডৌল পেটের
বৃন্তচ্যুত নাভিকমল ;
তোমাদের আকর্ষণের শীর্ষ বিন্দু…!!!
ধীরেই নেমে গেছে অরণ্যের গভীরে
যেখানে উর্ণা জাল বিছিয়ে এক রহস্যঘেরা দ্বীপ ;
মুখিয়ে থাকে উৎসুক পর্যটকের বিচরণের প্রত্যাশায়
নগ্ন কামনার প্রস্ফুটিত চিত্র।
নারী রূপী প্রকৃতির খেয়াল
এক সুবিশাল ঝর্ণা ধারা ;
যার ঘর্মাক্ত শরীরের বিন্দু ফোঁটা জলেও
এক অপরূপ ধোয়াশা শিশির বিন্দুর…
জলছাপ অংকিত পরিপুষ্ট ফলজ ক্ষেত ;
যা অঙ্কুরোদগমে হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ স্ত্রী।
আকার ইঙ্গিতে যে চিত্রই ফুটিয়ে তোল না কেন…
নারী আজীবনই দীর্ঘশ্বাস জড়িত রহস্যাবৃত
এক উদ্বাস্তু চরিত্র…!!!

অপেক্ষার শীৎকার

অপেক্ষার শহর জুড়ে অসুস্থ্য কুদরতের বৃষ্টি পড়ে ; কুয়াশার ওড়না জড়িয়ে বুকে…
নিশিকুটুমেরা পাহারা দিচ্ছে শহরের ঘুমন্ত অট্টালিকার ছায়া,
নিয়নের হলুদ আলো ফিনিক্সের মত উড়ছে বাতাসের ঢেউয়ে।

ক্ষুদ্র এ আমি অপেক্ষার সিরাম লাগিয়ে চলেছি সময়ের গায় ;
ধৈর্য্য কাজী, পাজি হয়ে কাহার্বা সুরে গলা সাধে বিচলিত মনে,
অপেক্ষার অদৃষ্টে কতটা মিষ্টতা লেগে…!!
অবশেষে পীপিলিকা খায় সারাংশ।

সবাই কেবল আশ্বাসেই নিঃশেষ করে প্রতিশ্রুতি ;
ঠোঁটে লেগে থাকে উপসংহার, অপ্রাপ্তির আচ্ছাদন টাঙিয়ে,
ভরসার মূল শিশ্ন উচিয়ে নগ্নতার বাহার দেখায় স্পষ্ট আলোকছটায় ;
হতাশার সঙ্গমে শীৎকার ডুকরে ওঠে বিশ্বাসের কাঙালিনী হদয়।

পৃথিবীটা আজ বোধহয়, সত্যিই ভরসাহীন রোদে ছেয়ে গেছে পুরোটাই…!!!

অন্যের নিবাস

তোমার বিস্তৃত কপালের টিপটাকে আজ রোদ পোহাতে দেখলাম সকালে ;
কাজল চোখের গভীরে প্রেমের বিষন্নতা ছুঁয়ে গিয়েছে দিরাগমনে,
কী এত খেয়ালের জাল বুনো শূন্যে তাকিয়ে…?
পটলচেরা নাকের উঠনে আজ অন্য কারো যতিচিহ্ন ;
সেখানে আজ অন্যের নামে নাকফুলের বসবাস,
রক্ত জমা ঠোঁট জোড়ায় লেগে আছে
তোমার পতি দেবের লালসার চিহ্ন স্বরূপ লালার সুবাস ;
রাতভর বিছানাকে ব্যস্ত রেখেছ বুঝি…??
প্রশস্ত পিঠখানা জুড়ে গালিচার মত বিছিয়ে রেখেছ ভেজা চুলের সমাহার ;
চুল চুইয়ে পানি শিশির বিন্দু হয়ে ঝরে
মাটিকে চুমু খাচ্ছে পরম যত্নের আলিঙ্গনে,
এই তোমার শরম নেই বুঝি…?
প্রভাতের স্নান সেরে কেউ কি এভাবে চুল খুলে রোদে ভিজতে বসে…??
তোমাকে বেশি দেখিনি কিন্তু আমি ;
এক পলকেই দেখেছি দীর্ঘক্ষণ,
এক নজরে তাকিয়ে থাকা যায় যতক্ষণ।
যে দিয়া আমার ঘরে জ্বালবে বলে কথা দিয়েছিলে ;
সেই দিয়া জ্বালো আজ অন্যের কুটিরে,
তুমি আজ অন্য কারো আলো ;
অন্য কারো নিজস্ব প্রদীপ জ্বলা নিবাস…!!!

জান্নাত

জান্নাতের অন্ধ জঠরে
নাড়ির মূল চুষে ভ্রণ স্বরূপ হয়েছিল
আমার যাত্রার সূচনা
দীর্ঘ নয়মাস আয়েশি ভঙ্গিতে থাকার পর
জান্নাতের সুখ ছেড়ে
নিরাপদ জান্নাতের জরায়ুর ডালপালার মায়ার রস নিংড়ে
আমি পৃথিবীর মুখ দেখতে উদ্যত হয়েছিলাম
কোনো এক ভোরে
পৃথিবীকে দেখা হলো চোখভরে জান্নাতকে ভুলে গিয়ে
আজ আমার জান্নাত নেই
জান্নাতের সুরভীও না
আমি জান্নাত চিনি না
জান্নাতের আলোবাতাস আমাকে খোঁজেও না
জান্নাতের দরজা আমার জন্য বন্ধ ঘোষিত
ছুঁয়ে দেখার স্পর্ধাটুকুও করতে পারি না
বুঝের ঘরে কখনো যদি সাড়া দিত
পৃথিবীতে আমার জন্য জান্নাতের সান্নিধ্য চির নিষিদ্ধ
আমি পৃথিবীর মুখ আর দেখতে চাইতাম না…!!

বারোভাতারি জঞ্জাল

ভালোবাসা…!!!
একদিন হয়ত ছিল…!!
একদিন হয়ত কেউ বেসেছিল…!!!
আজ শুধুই খেয়াল
মিছে মায়ার দেয়াল ;
শ্যাওলা জমে পরিত্যক্ত,
হেয়ালে হেলায় হারিয়ে
আজ আমি ভালোবাসাচ্যুত।
এই থমকে যাওয়া মনে
শুধুই সন্দেহ শুধুই সন্দেহ ;
ঘাতকের বেশে এসে
আমাকে করেছে বিকৃত,
আজ আমি ভালোবাসাচ্যুত।
বিবস্ত্র মনের হয়েছি অধিকারী,
নগ্নতায় আজ আমি
শালীনতার মুখোশ দর্শি ;
মিথ্যের আড়ালে
আমার পৃথিবী শৃঙ্গার করেছি,
আমি পোড়ামুখী, বারোভাতারি।
জবানের বৈরী দোষে
স্বভাবে কলুষতা মিশে ;
নিষ্পেষিত হাহাকার মনে
আজ আমি ভালোবাসা পূজারি,
কিন্তু যে হারিয়ে যায়
সে আর বর দেবে কী মোহে…??
দুঃসম্পর্কের সম্পর্কে জড়িয়ে
আমি আজ পাগলের প্রলাপ বকে ;
নিজেকে করি ক্ষতবিক্ষত,
আজ আমি ভালোবাসাচ্যুত;
আমি পোড়ামুখী, আমি বারোভাতারি।
এই অসীম শূন্যতায়
মুক্তির স্বাদ ললাটে মেখে ;
আমি আজ মৃত্যুর নেশাগ্রস্ত,
আমার আদি থেকে অন্ত
পুরোটাই মিছে পুরোটাই মিছে ;
আমি আজ হয়েছি…
পোড়ামুখী, বারোভাতারি
জঞ্জাল সাদৃশ্য…!!!