পিয়াস মজিদের কবিতা

71

জানা কথা কিংবা কবিতা

জানতাম তো আগেই
বছরটা নতুন হলেও
নতুন কিছুই হওয়ার না।
মাঞ্জাসুতা, নয়া আঠা
ঘুড়ি তো সেই ঘোলাই;
আকাশের নীল থাকে
দূর আকাশেই।
মাঘের মাসের বাঘি হাওয়া
শীতের শাণে কাছে আসা
প্রেমসূত্রের-ঘৃণাসূত্রের
তাবত, যাবত আত্মীয়া।
কতটুকু সমর্পণ আর
কত ছটাক বিদ্রোহ;
ভারসাম্য বিধান ভেবে
বেঁচে থাকা বাস্তবায়নের
আজদাহা এই কবরখানার
প্রীতিকুসুম-মায়া ছেড়ে
যে যার মতো রাস্তা খোঁজা
ভালয় ভালয় পৌঁছে যাওয়া
নিজ নিজ সাড়ে ৩ হাত।

বাঁচতে বাঁচতে

বাঁচতে বাঁচতে
নেশামুক্ত মানুষেরও
বাঁচার নেশা ধরে যায়।
পেশাদার প্রেমে ও প্রতিবাদে
নিয়ন্ত্রিত হালুম ও ফুলের সুবাসে
কী সুন্দর বাঁচনকামী,
এক একটা
জবরদস্ত জীবনজীবী!

চলছে, চলবে

যতই তুমি মরতে চাও
গহিন গোলাপগ্রামে;
তুমি তো সেই বেঁচেই পচবে
নর্দমার নীড়ে, ধূলিবালির রুহে।
যতই তুমি
শায়িত-শান্তি কবর খোঁজো
ভ্যান গগের ওই
হলুদ মায়ার বনে;
তুমি তো সেই হেঁটেই যাবে
অনন্তের এক হাঁটাবাবা হয়ে
জনম জনম জিন্দা লাশ রূপে।
যতই তুমি ঢলতে চাও
স্বপ্নহীন ঘুমের কলোনিতে;
আজকে রাতের ঘুমও তোমার
ঢলবে দ্যাখো
দুঃসহ সেই স্বপন-শিথানে;
আরও কিছু স্বপ্ন দেখার
বিকট বাস্তবে।

কমেডি অফ মিরর

আয়ুর আস্তানা নিয়ে
আয়নার শরীরের সামনে দাঁড়ালাম তো,
এতকালে ব্যয় হয়েছে যত
ছায়ার বসন্ত
আর তারপর অবশিষ্ট যা কিছু
প্রতিসরণের মাহাত্ম্য।
ক্রমাগত দৃশ্যের মোকাবিলা করতে করতেই তো আমরা আমাদের অন্তিম-দৃশ্য চাক্ষুষের মতো
অন্ধত্বের উপকূলে পৌঁছাই।

মানুষ তুমি!

মানুষ, তুমি কেন আসলা
এই সাধের দুনিয়ায়,
খুশিতে না ঠেলায়?
তুমি নাকি
দিনের সওদা
রাতের রওজা
আর
প্রেমের পয়দা,
তুমিই আবার সেই ব্যবসায়ী
ঘৃণা যার আড়তদারি।
তুমি দেখতে থাকো
চলছে গাড়ি যাত্রাবাড়ি
বাড়ির পাশে আরশি সিটি;
সবকিছু বেচতে বেচতে
বুকের ভেতর বাঁইচা থাকা
একটুখানি
লালন, হাছন, উকিল মুন্সি!
নাঙ্গা নদীর ধারে
মানুষ তুমি
কী মায়ায়
পোষাক পরাও
নিজের ছায়ার;
মধুমালায় খুঁজতে থাকো
বিষের বাহার।
মানুষ তুমি আস্ত একটা
বিটার বিউটি;
জ্যামে আটকা রাস্তারে কও
‘মহা খালি’!
ডুইবা যাইয়া,
আগুনে পুইড়া, রক্তে নাইয়া,
মরা-ধরা নিশ্বাসের কানে কানে কইতে থাকো,
‘হে জীবন, প্যারা নাই; চিল!’