স্নিগ্ধা বাউল এর গুচ্ছ কবিতা

87

সংখ্যাতত্ত্ব

আমি আগের নম্বরে নেই
জৈবিক রূপান্তর সংখ্যা সবই বেড়েছে
চর্বির ভাঁজে জমেছে সময়ের স্তর;
বত্রিশ নম্বরের ব্র্যান্ড আমার মালিকানা ছেড়েছে
ছেড়ে গেছে একক প্রেমিক সংখ্যা।

নতুন নম্বরে আছি আমি আর আমাদের গতি
তবু পুরোনো কেউ ছুঁয়ে যায় আমাদের
শৈশবে পাঠ্য ইংরেজি বইয়ের অ্যাপ্লিকেশনের মতো
‌‌‌অন বি হাফ অব দ্য পিপল
বোদা উপজেলা, পঞ্চগড়”
পড়েছিলাম সেখানে নলকূপ চাই।

মৃত্তিকার সতীচ্ছেদে বেরিয়ে আসবে রসালো জল
অমৃত ভাবনায় বয়ে যাবে ভূমিজ সন্তান-
কামজ সংখ্যাতত্ত্বের চর্যার জীবনে।

যুগ্মস্বরধ্বনি

শীতের রাতে উত্তপ্ত হৃদয়ের গন্ধে মুখর
চারপাশ জেগে থাকে;
নোঙর ফেলে চলে যায় দূরের মাঝি
বিচ্ছিন্ন মন পড়ে থাকে;
উলঙ্গ মুখের ছবিগুলো কল্পনায় খেলে
চোখ ভিজে আসে;

যেতে যেতে দেখেছি আমার চোখে নয়
পানকৌড়ির খেয়ালে
বিচ্ছিন্ন পাতার মতো উড়ে আসে
যৌনগন্ধী অক্সিজেনের সুর।

কুয়াশার রাতে আমি হেঁটে যাই
বেদুইনের দেশ থেকে সাইবেরিয়ায়।
ফটোফ্রেমে বাঁধানো আমার বিদুর আঙিনায়
এ যেন বলিষ্ঠ পাথর,
ঘূর্ণিপাক সঞ্চালিত রথে ভেসে যায়;
যেমন ভেসে চলে ঢেউয়ের বুকে উদ্দাম নাবিক
দূর সমুদ্রের সূর্যভূমির দ্বারে,

আমি এসেছি এখানে, আমরা হতে।

পোয়াতি বৃষ্টি

অনেকদিন বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখিনি
হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া বৃষ্টি
না দেখলেও অনুভব করেছি
বৃষ্টি একটা আস্ত পুরুষ মানুষ;
হাত ছোঁয়ার বাসনায় গড়িয়ে যায়
ছুঁয়ে যায় আপাদমস্তক;
প্রকাশ থেকে গোপন যত কথা
অঙ্গের কলকাঠি।

বৃষ্টির খবর নেই অনেকদিন;
হালের বলদগুলো বৃষ্টি চায়, অনেক নরম মাটি খুঁড়ে আনবে
এক পোয়াতি গাছ;
আমি ভুলিনি আমার বৃষটির জলে
পোয়াতি হবার সম্ভাবনা।

আমাদের নিপুন সন্ধ্যা
আমার রঙিন জামা, সিঁদুর কৌটা
মায়ের নথ, চপলতা
ভাঁজের শাড়ি, শাঁখার অস্তিত্ব
স্কুল ছুটির দিন, গোলাপের পাঁপড়ি
রাতজাগা তারা, গ্রিলের বারান্দা
কাপরের টুকরো, স্বপ্ন ফালি
আকাশের চাঁদ, সময়ের ফাঁদে
রূপকথার হাতে, বয়সের ছাদে
উঠে গেছে আমাদের জমিন
নতুন ফসলের গানে
ছেড়ে যাব শেষ বৈঠকের গান
সূর্যের সাথে কথা হয়েছে অনেক
শেষ বিকেলের রোদে
পৃথিবীর সমস্ত অবসাদ ফেলে
ছুটে যাব নিজের শরীর থেকে
আরও অনেক ভোরের কাছে
তোমাদের নতুন সূর্য দেখার আকাশে

আমাদের ভালোবাসা
প্রতিটি সূর্যাস্তের কাছে।

সন্ধ্যে ঘর

হুড়মুড়িয়ে পড়ছে কপাট। সাজগোজ অনন্ত
দুমদাম সিন হচ্ছে ম্যাসেঞ্জার, অহেতুক পুল
পুল থেকে নেমেই হাঁটাপথ।কয়েকটা কস্তুরি
পুরোদস্তুর সংসারী তেমনি আবারও ভুষুণ্ডি
মেঘ সরে গেলেই তেড়ে আসে মেগাবাইট হয়ে
জলজ লিলি দ্য গ্রেট নৈঋত গম্ভীর কণ্ঠে
বইছে বিস্তৃত খোলা চিঠি হয়ে। চোরে নেয় মন
বিলাতী কুকুর এস্টেরয়েড বেল্ট অবজেক্টদের
দখলে থাকবে কিছু ছাঁই টেবিলে এস্ট্রের কাছে
বিলাতিয়ানা ছেড়ে ধুতি আপ্তঘাতী ময়দানে
স্ত্রী রতন জমায়,ম্যারেজ ডে কেক ছুড়ি মোম
মোমেন্ট মিস করি ইউ ফাকার এমন করে।

দাসীবৃত্তি করে দেওয়া ঘর সংসার চলে যায় মন
হাঁটতে হাঁটতে হারায় গভীর ক্ষত হয়ে পুঁজ ঘা
বেকায়দায় হাসতে ইচ্ছে করে প্রতিদিন লায়ার।

ঈশ্বরের বাগান

সম্ভবত আমার জন্মের আগেই ভ্রূণ স্থলপদ্মের মতো মায়ের নাভিকমলে জড়িয়ে ছিলো, পৃথিবীতে বাস করতো তখন নদীবন নিভৃত আঙিনা,অবুঝ শৃঙ্গারীর ভরা চাঁদ ; সচকিত সুরে সম্বিৎ ফিরাইতো ঝিরিঝিরি শব্দ বাতাসে বাতাসে।

মাঠে অঘ্রাণ কুয়াশায়
মাঘের পেলবতায়
ধু ধু ধানের পালকে
গাঢ় অন্ধকার সবুজে ডোরাই পাখি
লেবুবাগানে নীলচে পাহাড়ের সুখ

ঈশ্বরের বাগানে হয়তো উড়তো
গহন স্ফুলিঙ্গের গান
রূপকথার কণ্ঠস্বর হয়ে নেমে আসতো
উজ্জয়িনী নগরের মালবিকা
গোধূলির আলোমাখা কাঠগোলাপের আভায়
আকাশী-নীল পুকুরে ঘটে যেতো সঙ্গম—

সম্ভবত আমার জন্মেরও পর
কনকচাঁপার ঘ্রাণ সন্ধ্যা মালতীর হয়ে
কামিনীসুলভ অবিস্মরণ হয়ে যায়!

এরপর আসে উপত্যকার দৃশ্য
মানুষের হৃদপিণ্ডটা ঝুলতে থাকে
কসাইখানার ফুল হয়ে
ইসরাইল থেকে নেমে আসে আগুনশ্বাসের ছটা
তছনছ হয়ে ঈশ্বরের বাগান,
আমি ছুটছি অন্ধ দোকানী জানিয়ে দেয়
এ শতকের কোনো শোক নেই!