নির্মলেন্দু গুণের গুচ্ছ কবিতা

88

শিরোনামহীন কাব্য

Breasts aren’t far from the pair
Of sexy lips of the women.
রমণীর ঠোঁট তাই এতো মধুময় বলে
প্রতিভাত হয় পুরুষের কাছে।

But the “next of men” is not so
Close to their hungry lips.
এ-সত্য জনার পরও নারী কি সত্যিই
পুরুষের ঠোঁটের চুম্বন যাচে?

I have some subtle doubts.
Forgive! Oh Lord, my little joke.
এরপরও আমি চাই নারী ও পুরুষ
এরকম অসমচুম্বনেও সুখী হোক।
১৮ মে ২০২২।

খবিশ

হেচ্ছেড়িরে ধর,
ডুলির মধ্যে ভর।
ডুলির মধ্যে ভইরা,
হাতে-পায়ে ধইরা
মরিচ দিয়া,
হেবাইজ দিয়া
লাড়াচাড়া কর।

লাড়াচাড়া খাইলে পরে,
দেখবি ছেড়ি আদর করে
কানে কানে কইবো তরে–
“তুমি চাইলে হইতে পারো
আমার খবিশ বর।”

[লোকছড়া অনুসরণে রচিত।]

লেনিন ম্যুসলিয়াম

আমার চক্ষুদ্বয়কে বলি ‘প্রসারিত হও, অধীর হয়ো না,স্থির হয়ে দেখো,
প্রাণ ভরে দেখো; –এই তো লেনিন।’

একদিন সিদ্ধিদাতা গণেশের ছবির উপরে যাঁর ছবি
দেখেছিলে কল্পলোকে অতিদূর নক্ষত্রের মতো,
আজ সেই নক্ষত্রের আলো লুটিয়ে পড়েছে এসে তোমার দু-চোখে।
যার মুখ হৃদয়ে সতত
বহন করেছো তুমি গভীর বিশ্বাসে,
আজ তাঁর মুখোমুখি এসে সবচেয়ে নিঃশব্দে দাঁড়াও।
কাঁপে না চোখের পাতা, শান্ত হও,
শান্ত হও, সখা।

ভুলে যাও তুমি কোথা থেকে এলে,
ভুলে যাও তুমি কত দূর থেকে এলে,
মনে করো এই বিপ্লবীর বিপুল জীবনে
আদ্যন্ত জড়িয়ে ছিলে তুমি।

মনে করো তোমার শরীর এক
আশ্চর্য সুন্দর কাসকেট, তার অভ্যন্তরে
শুয়ে আছে জীবন্ত লেনিন,
যেন মাতৃগর্ভে প্রাণবন্ত শিশু।

হে আমার চোখে, অধীর হয়ো না, দেখো; এরচেয়ে সুন্দর দৃশ্য,
এর চেয়ে নয়ন-ভোলানো
কোনো ছবি পৃথিবীতে আর নেই।
হে অনভ্যস্ত পা আমার, স্থির হও,
বোকামি করো না, চোখের নির্দেশ মেনে চলো।
ধীরে খুব ধীরে ধীরে হাঁটো, যেন না ফুরিয়ে যায় পথ।
যেন না হারিয়ে যায় এই লেনিন-প্লাবিত শোভা তোমার পশ্চাতে।
বলো, আমি কী করবো?
আমার চোখ চলছে না …
আমার পা চলছে না,
আমি অনেক দূরের পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি
কিছুক্ষণ আমাকে দাঁড়াতে দাও বন্ধু,
আরো কিছুক্ষণ আমাকে দেখতে দাও তাঁকে।

ক্রেমলিন-ফটক আগলে অনন্ত সুপ্তির মাঝে তিনি শুয়ে আছেন,
যেন ধ্যানমগ্ন বাল্মীকি আমার;
স্তম্ভিত সময় মাথা নত করে কুর্নিশ করছে তাঁকে।
তিনি ভাবছেন, ভাবছেন,
আর ভাবছেন।

তাঁর স্ফুরিত মেধার মুখ উদ্ভাসিত অমার আলোয়,
না-বলা কথায় স্পন্দমান,
যেন সেই অনির্বাণ দীপশিখা তিনি, অন্ধকার রাত্রি যার আলোর কাঙাল।

হোটেল রুশিয়া, ক্রেমলিন,
নভেম্বর ১৯৮২।

মুঠোফোনের কাব্য

বাতাস যেমন শোঁ-শোঁ শব্দে
সমুদ্রকে ডাকে,
রথের মেলায় হারিয়ে যাওয়া
শিশু যেমন মাকে–
তেমনি ক’রে ডেকেছি আজ
আমার পাগলীটাকে।

এর পরেও কি পাগলী আমার
আর পাগলী থাকে?

প্রেম নয়, কবির অন্বিষ্ট হলো বিরহ।
কিন্তু বিরহ দুর্লভ বড়,
প্রেমের ওপারে থাকে সে।

তাই তো কবিকে প্রেমে পড়তে হয়,
কিন্তু সে প্রেমের জন্য নয়–
একদিন বিরহকে কাছে পাবে বলে।

তাই তো আমি নদীকে বলি প্রেম,
সমুদ্রকে বলি বিরহ।

রক্তে আমার কী অনিবার তৃষা,
রহিতে পারি না আর থির যে।
ভাসাও আমারে, ভাসাও,
আমারে ভাসাও প্রেমের বীর্যে।

ভাসাও আমারে অকুল সাগরে,
নিয়ে চলো প্রিয় পারো যত দূরে-
সেই মহাসিন্ধু দেখাও আমারে
যার শেষ নাই, — নাই তীর যে।

তুমি যেন শোনো আর আমি যেন ডাকি,
তুমি যেন ভোলো, — আমি মনে রাখি।

পাগলী আমার ঘুমিয়ে পড়েছে
মুঠোফোন তাই শান্ত-,
আমি রাত জেগে দিচ্ছি পাহারা
মুঠোফোনের এই প্রান্ত।

একথা যদি সে জানতো?

আমিই দিই না জানতে।
কবির প্রেম তো এরকমই হয়,
পান্তা ফুরায় নুন আনতে।
হে চির অধরা আমার–
তুমি তো সে-কথা জানতে।

মৃত-মুঠোফোনে প’ড়ে আছে তার
বিদায়ী পায়ের ছাপ।

তুমি ছিলে তাই মুঠোফোনে ছিল হাসি,
তুমি নেই তাই মুঠোফোনে শুনি কান্না।
২৬/০৪/২২

প্রাকৃতিক

ফুলের ভিতরে তৈরি হচ্ছে গন্ধ।
আকাশের পেটে তৈরি হচ্ছে সূর্য।
বৃষ্টির জন্য তৈরি হচ্ছে মেঘদল।
মনের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আনন্দ।

সিংহের জন্য জন্ম নিচ্ছে হরিণ।
দিনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রাত্রি,
রাত্রির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দিন।

গাছের ডালে ডালে সুগন্ধি মুকুল,
নদী বানাতে সম্মত হয়েছে দু’কুল।
তোমার জন্যে বড়ো হচ্ছি আমি,
আমার জন্যে বড়ো হচ্ছো তুমি।

মান্না দে’র জন্য গান

দেখি, তোমার কাছে আমি
আর কতদিন না গিয়ে পারি!
দেখি আর কতবার আমি
তোমার প্রেমের কাছে হারি।

তুমিই তো হয়েছো জয়ী,
পরাজয় হয়েছে আমার–।
দেখি আর কতো পরাজয়
দেখিলে সুখী হয় হৃদয় তোমার।

তোমার প্রেম যদি মিছে হয়,
আমার প্রেম তো মিছে নয়।
বলো কী করে ভুলবো তোমায়?
আমি কী ক’রে তোমারে ছাড়ি?
১ এপ্রিল ২০২২।

ক্ষুদ্রতাকে আড়াল করি নেই সে সাধ্য,

ক্ষুদ্র চিরকালই জানি বৃহৎবাধ্য।

তোমার কাছে ফিরে এসে প্রত্যহ তাই-,
অপমানের চেয়েও বেশি আনন্দ পাই।

তুমি চাওনা সে-আনন্দে অংশ নিতে,
পোড়াতে চাও আমাকে তার দংশনীতে।

হে ভুজঙ্গী, বধু আমার,— প্রিয় সর্প,
দংশনেও কি হবেেনা লীন তোমার দর্প?