সৈকত ঘোষের গুচ্ছ কবিতা

303

জিনা ইসিকা নাম হে
মিথ্যের পৃথিবীতে এভাবেই রোজ
একটা সত্যি চাঁদ উঠুক

১.
অন্তহীন বিষাদ ঢেকে হেসে ওঠে নিষ্পাপ চাঁদ
তার গায়ে আত্মীয়তা মৃত্যুর
তার গায়ে গন্ধহীন আতর 

আমরা দেখি চোখের জলে মিশে যাচ্ছে জীবন যুদ্ধ
আমরা দেখি সাদা পৃষ্ঠার সামনে থমকে দাঁড়িয়েছে
মায়ের মতো কেউ
শূন্যতার পৃথিবীতে একটা নীল আলো ছড়িয়ে পড়ে 
গাছেরা সোহাগ বিছিয়ে দেয়
স্বপ্নের ভিতর স্বপ্ন আর তার
ভিতর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে জীবন 

২.
সময় এলোমেলো হয়ে যাবার পর 
সময়ের চুল দাড়িতে আটকে থাকে মায়া 
একটা জলজ্যান্ত ছায়া,
মিলিয়ে যায় শূন্যের আর্কাইভে 

আমি আঁকিবুকি লাল,
জ্বরের হাড় পাঁজর
মৃত্যুর ঝুল বারান্দায় শহর ফিকে হয়
ফিকে হয় স্মৃতি
ডায়রির পাতা তোমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে
একটা একটা করে তারিখ অন্ধ হয়ে যাবার আগে 

৩.
কিছু সত্যির সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে
আত্মবিশ্বাসদু-চোখে নুন,
দু-চোখে মৃত্যুর দিনলিপি
এ অভিজ্ঞতায় কোথাও সমুদ্র নেই
দুয়ারে এসে শেষ হয়ে যায় জেব্রাক্রসিং
আমি দেখি ফ্র্যাইংপ্যানে জীবন,
স্পর্শ গুছিয়ে নিচ্ছে বিকল্প ধারাপাত 
আমি দেখি আধখাওয়া জীবন থেকে 
প্রতিদিন তার স্বাদ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাড়িময় 

৪.
শরীরে ঘাসফুল নিয়ে জন্মালে
ইতিহাস ফিকে হয়ে যায়
মুখ লুকিয়ে শীত আসে, তার নরম ডানায়
আজও ঘোলাটে দিনকাল 
তুমি চাইলেও চেষ্টা চেষ্টাই থেকে যাবে 

পাখিরা হেসে ওঠে অনধিকার চর্চায়
ফোয়ারার আনন্দে সন্ধে খুলে বসে হিসেব
আসলে বন্ধুত্ব একটা খেলা
যেখানে মানুষ না চাইলেও প্রচন্ডভাবে মানুষ

৫.
এতটা ঋতুমতী উড়ান 
কেবল লড়াই সংকেত নয়!
কাচঘর মিথ্যে লাগে, মিথ্যে লাগে আবেগ আয়োজন

আসলে ভালোবাসা ছিনিয়ে নিতে হয়
যেভাবে জোৎস্নার কোল থেকে 
রং ছিনিয়ে নেয় অতৃপ্ত জঙ্গল 
হাওয়ার এপিটাফে কয়েকটা না ফোটা গোলাপ
এ হিমযুগে তোমার কোনও গন্ধ নেই,
অস্তিত্ব বলতে 
পান-পাতার ওপারে দুটো চোখ
কেবল জেগে