মধুবন চক্রবর্তী’র কবিতা

381

ভালোলাগা তোমাকে

আজকাল ভাল লাগার কথা ভাবলেই
পাখির ডানার মতো সন্ধ্যাগুলো আকাশের
দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
বৃষ্টির ধারাকে ধারালো কাঁচের টুকরো মনে হয়।
আজকাল ভালোলাগা আসলেই মরিচ রঙের
বিকেলগুলো বিষন্ন অবসরের মত হাঁটু মুড়ে
বসে থাকে। এতকিছুর পরেও ভালোলাগার
চোখের দিকে তাকালে গরম কফির ধোঁয়ায়
ভেসে ওঠে চিলেকোঠা, কড়ি বর্গার জানালা,
গাড়ি বারান্দা হারমোনিয়াম ঘ্রাণ। রবীন্দ্রসঙ্গীত
লিপস্টিকের গন্ধ। ভালোলাগার ফড়িং গুলো
স্মৃতির জঙ্গল পেরিয়ে, কাঠখড় পুড়িয়ে,
দূরপাল্লার ট্রেনের গতিতে পলাশ উদযাপন করে
তবু… আজকাল মেঘলা আকাশ দেখলেই বৃষ্টির
সম্ভাবনা কম বুঝতে পারে ধানক্ষেতে ল্যাপটানো রাত।
ভালোলাগা বাড়লে ভালোবাসাবাসি
তীর্থযাত্রীর মত তাকিয়ে থাকে দুর্গম রাস্তার দিকে।
তবু আমাকে অভয় দেয় আমার প্রিয় নদী।
প্রিয় নৌকো। চারপাশে তাকিয়ে থাকা বুনো ফুল।
নদীতে ঢেউ আসে। জোয়ার ভাটায় নৌকো ভেসে চলে।

সবুজ সম্ভবা

বুকের মধ্যে একটা সবুজ ঘ্রাণ উষ্ণতা ছড়াচ্ছে
বুকের মধ্যে জেগে উঠেছে একটা লাল রাতের
সূর্যের মতো। বুকের গভীরে বেজে উঠছে সরোদ,
সন্ধ্যার আদর মেখে। শিশির ছোঁয়া ঘাসের বিন্দুতে
রোদের মহীরুহর বীজ বপন করেছ তুমি।
বৃক্ষ সম্ভবা হৃদয়ে আজ শব্দ-ধ্বনির তরঙ্গপ্রবাহ।
সোনালি আভা নিয়ে রৌদ্রস্নাত অনুভূতিগুলো নড়ে
চড়ে উঠছে। টের পাচ্ছি প্রগাঢ় আধাঁরে সংগোপনে
বেড়ে উঠছে গাছটা। কবিতা তুমি শীত বৈভব,
ঝরা পাতার সৌরভ, শুষ্ক বাতাসের মর্মর ধ্বনি,
নিলাজ নীল আকাশের মত জড়িয়ে ধরো অন্তর্লীন
সবুজটাকে। সবুজ সম্ভবা একটা আস্ত ক্রিসমাস
ট্রি হয়ে উঠছে। ফাগুন তুমি এই পথেই,
এই পাঠেই হিমেল ছোঁয়া হয়ে থেকো।

পথের পাঠ

আমার ছায়াপথ ধরে হেঁটে গেছে বালুকাবেলা
নদীপথ, জলে জ্বলে ওঠা মৎসকন্যা।
আমার মায়াপথগুলো মৃণাল গন্ধে মায়ামৃগর
মতো স্বপনচারিণী। আমার বেওয়ারিশ রাতগুলো
সমুদ্রপথে টাইটানিক বোঝাই নীরব সমাধি।
আমার আকাশপথে হীরের দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছে
ইমণকল্যান, ছবি এঁকে চলেছে দরবারী সন্ধ্যা।
সবুজ যাপন চুম্বনের উষ্ণস্নাত গালিচা পথে।
মনপথে যেতে যেতে মনোবৈজ্ঞানিক আলোয়
হঠাৎই দেখা পথ বেঁকে গেছে যে ঠিকানাবিহীন
গন্তব্যে, সে পথের পথিকের সঙ্গে।
সে আমাকে নিয়ে যায় পথের সীমা পেরিয়ে
অসীমের দিকে। যে অসীমের ও এক সীমা আছে।
সেই সীমা ঘেরা অসীমের মাঝে, এক অনন্ত আকাশ।
পথ হারিয়ে আমি সেই দিগন্ত চিরে আলো
ঠিকরে আসা পথের পাঠ নিচ্ছি। যেখানে অলীক
স্বপ্নেরও শেষটুকু দেখা যায় বৈকালিক আলোয়।
দেখা যায় অচিন পাখিরও একটা চেনা দেশ।
চেনা কুটির। অবৈধ ভালোথাকার এক বৈধ
ছাড়পত্র। অধরা মাধুরীর সোহাগী পরাগ রেনু।
অমিতের প্রিয়তমা লাবণ্য। পথিক পথ দেখাচ্ছে
আমারও এক তুমিকে। যাকে খুঁজছি সেই
বৈজ্ঞানিক আলোয়।

অনি/সিনেটিভি