দুলালের কবিতা জন্মভূমির নাড়ির সাথেই প্রোথিত

339

জাকির হোসেন

কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে আছেন প্রবাসে। অথচ প্রবাস জীবন তাঁকে বৈদেশী বানাতে পারেনি। আপাদমস্তক তিনি রয়ে গিয়েছেন খাঁটি বাঙালি, বাংলাদেশি।

বসবাসের জন্য প্রবাসে শাখা-প্রশাখা ছড়ানো হলেও শেকড় থেকে কখনোই তিনি বিচ্ছিন্ন হননি। তাঁর শেকড় জন্মভূমির নাড়ির সাথেই প্রোথিত।

অভিবাসী দুলাল বরং প্রবাস জীবনের নানা অনুষঙ্গ তাঁর কবিতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। মাত্রা পেয়েছে আন্তর্জাতিকতায়। কখনো কখনো স্বদেশ ও বিদেশের নানা বিষয়আশয় দ্রবীভূত হয়েছে তাঁর কবিতায়; বলা যেতে পারে, তা এক ধরনের চিন্তার অনুবাদ।

কবিতা নিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কবিতাকে দেখেন উল্টোদিক থেকে, ভিন্ন দৃষ্টিতে। নারী বা পুরুষ থেকে সরিয়ে এনে মানুষ কখনো কখনো স্বীয় সত্তার বাইরে চলে আসেন! অনুভব করে বিপরীত উপলব্ধি বা তৃতীয় সত্তা। যার জন্য সম সাময়িক কবিদের কবিতা থেকে তাঁর কবিতা আলাদা।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল গদ্যের মতো পদ্য নিয়েও গবেষণা করেন। সেজন্য কবিতার বিষয় নিয়ে চিন্তার গভীরে প্রবেশ করেন। মানুষের মনোজগতের অন্তর্নিহিত খনিজ তুলে আনেন ডুবুরির মতো। ফলে দুলালের কবিতা হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমধর্ম তথা স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত।

কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদের কবিতার চমত্কারিত্বের একটি উদাহরণ হলো এই যে, সবাই যখন মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে কবিতা লিখেন; তখন তিনি উল্টো ভাবে মাকে বলেন, আমি তোমার সন্তান বলেই তুমি ‘মা’ হতে পেরেছো।

সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জননী এবং সন্তানের পারষ্পারিক ঋণটা কবিতায় সমান্তরাল করে তুলেন তিনি। ইউকিপিডিয়ার কথা ধার করে বলা যায়- এভাবেই তাঁর কোনো কোনো কবিতার ধারা কিছুটা- এন্টি পয়েট, এন্টি সেক্স, এন্টি লাভ এবং গ্রন্থের নামকরণেও তা প্রতিফলিত।

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল একদিকে যেমন সহজ-সরল-সাবলীল ভাষায় লিখেন তেমনি তিনি জন্ম দেন প্রতীকী, রূপক রহস্যময় এবং জটিল কবিতা; এক কবিতার ভেতর যেনো একাধিক কবিতা! আবার একটি কবিতা থেকে আরেকটি কবিতার বিষয়বস্তু, ব্যঞ্জনা, উপস্থাপনার দূরত্বও পাঠকদের সুদৃষ্টি কাড়ে।

অন্তর্মুখি এই কবি অন্তরালে থেকেই প্রতিদিন বাংলা সাহিত্যকে, বিশেষত আধুনিক বাংলা কবিতাকে যেমন সমৃদ্ধ করছেন তেমনি সাহিত্য নিয়ে তাঁর গবেষণার কাজটিও চলে অহর্নিশি।

বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কারিগর কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল তাঁর অধিকারের অংশ হিসেবেই নিশ্চয় তিনি একে একে স্পর্শ করবেন বাংলা একাডেমি, একুশে ও স্বাধীনতা পুরস্কার। এতে করে তিনি যতটা না সম্মানিত হবেন তারচেয়ে অধিক সম্মানিত হবে বাংলা সাহিত্য এবং বাংলাদেশ।

অনি/সিনেটিভি