চঞ্চল চৌধুরীর ‌’তাকদীর’ রিভিউ

239

মনজুর আহমেদ কাদেরী খসরু

ক্যানসারের ভাইরাস ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় ভয়াবহ ভাবে আক্রান্তের রুপ নেয় ঠিক তেমনি আমাদের সমাজের অপরাধগুলো এই ভাবে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে সমাজকে এক সময় নষ্ট করে দেয়। সমাজের প্রভাবশালীদের কাছে যখন বিচার ব্যবস্থা জিম্মি, আইনের অধিকার যখন স্বপ্ন, আত্যাচার নির্যাতন যেখানে নিত্যদিনের সংস্কৃতি সেখানে প্রসাশনের কাছে আর কি আশা করা যায়?

আজ একজন যেখানে প্রতিবাদী কাল সেখানে সে সারে তিন হাত মাটির অন্ধকারে। দেশে স্বাধীন কিন্তু ন্যায়পরায়নতা , বিচার ব্যাবসথা, আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা স্বাধীন হয়নি। সমাজের মা বোন আজও নিরাপদ না। পিশাচের বাহিনী কখন রেপ করবে সেই ধান্দায় থাকে। ধর্ষিতা যেখানে সমাজের চোখে অসহায়। গরীবের রক্ত শোষণ করে পকেটে ঢুকে রঙ্গিন টাকা, হয় বিশাল বিশাল কারখানা। অট্রালিকা। ক্যান্সার রুপী এই অপরাধ জগতের অপরাধসমুহের প্রতিষেধক কি আছে?

এবার সিরিজে আসি। যখন ’তাকদির’এর সিরিজের ট্রেইলারটা দেখলাম তখনই দেখার সিধান্ত নেই আর দেখেও ফেললাম। যদিও ফরেইন সিরিজ দেখে অভ্যস্ত কিন্তু নিজের দেশের সিরিজ মিস করাটাই ঠিক হবে না। টিভি নাটকের অনেক পরিচত মুখ এখানে দেখতে পাবেন। চঞ্চল চৌধুরির অভিনয়ের গুনের কথা আলাদা করে বলার দরকার নেই। বস ইজ বস। এখানেই অভিনয় দিয়ে ফাটায় ফেলসে। আছে পার্থ বড়ুয়া।

আদিবা এম্বুলেন্স। লাশবাহী ফিজিং গাড়ী। নিত্যদিনের মত লাশের এই আদিবা এম্বুলেন্সের গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাকদির। এই তাকদিরের চরিত্রে আছে চঞ্চল চৌধুরী। একটু অতিরিক্ত রোজগারের জন্য লাশের পাশা পাশি মাছ সাপ্লাইও করেন। কিন্তু একদিন দেখতে পেলেন গাড়ীর মধ্যে একটা মহিলার লাশ। গায়ে গুলি করে। রক্ত মাথা। কি করেই বা আসলো এই লাশ? কে রাখলো? মন্টু চরিত্রে ঐ ছেলেটার অভিনয়ও ছিলো অসাধারণ।

জিলাপীর মত পেচানো কঠিন ও নোংরা রাজনীতি আর এই রাজনীতির চর্চাকারক, খুশির ঠেলায় অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা ছদ্মবেশী ভদ্র লোক, ‌‌’আইনের নামে বেআইনী, কিছু রক্ত পানি করা কিছু মেহনতি লোকদের নিয়ে এই সিরিজ। আমার মা শরীর বেইচা আমারে মাদ্রাসায় পড়াইতো, মা মরনের পর, ঐ দুনিয়া ছাইড়া আমি আপনাগো দুনিয়ায় আইলাম। কিন্তু এই দুনিয়ায় আইসা দেখলাম ঐ দুনিয়ায় শুধু শরীর বিক্রি অইতো, আর আপনাগো ভালা দুনিয়ায় শরীরের সাথে সাথে আত্মাডাও বিক্রি হয়।’ কথা গুলো সত্যি বাস্তবের সাথে মিলে যায়। অসাধারন ডায়লগ।

অসাধারন ডায়লগ আর থ্রিলিং এ ভরপুর সাথে ড্রামাও খারাপ নয়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজক আর লোকেশনও ভালো ছিলো। ডিরেকশন মোটামুটি বলা চলে। গল্প ভালো তবে সেটার বেশ কিছু দৃশ্যায়ন গোছনো ছিলো না একটু অগোছালো। ফিনিশিংটা অন্যরকম করা যেতো। আরো ভালোভাবে টুইস্ট আকারে করা গেলে মন্দ হত না। অন্যেরা কি বলবে জানি না। যাই হোক নিজ দেশের সিরিজ ভালো সিরিজ।

অনি/সিনেটিভি