নাদিম মাহমুদ এর পাঁচটি কবিতা

325

দুঃখ

জীবনটা পরাধীন, পাতায় মোড়ানো ঘর
অনুভূতি দিয়ে অনুভব করা যায়,
জোছনার আলো সূর্যের প্রখর তাপ।

আর কত দিন যাবে
মনের শূন্যতা বড় করে
দেখছি নিজেকে পর করে!

গোধূলির আলো যদি আসে
মাঝ রাতে স্বর্গ ছায়া হয়ে
এড়াতে পারি কী অদম্য আকর্ষণ,
দীর্ঘ নীরবতা শেষে।

যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
অপরাধী চোখ মূল্যহীন
চেয়ে থাকে খোলা আসমানে।
ঝড়ের গতিতে নামহীন দুঃখ আসে।

হাকিম কাঠের ঠোঁটে কথা বলে!
সত্যদৃষ্টি মধ্য দুপুরে নতুন টিনের চালের মতো হাসে।

চিত্ততলে দুঃখ থাকে,
আমি দুঃখে কেনা ক্রীতদাস।
জলের মাতাল শব্দ দুঃখ হয়ে ঝাপ দেয় নগরে
মোহেনী চাঁদের আলো একা
ডাকে দুঃখ দুঃখ বলে।

মনের ঈশ্বর

পৃথিবীর শেষ দেশে অস্ত নামে সূর্যমুখী,
অন্ধকারের দীর্ঘ নিঃশ্বাস মুচকি হাসে।
পৃথিবীর ঈশ্বর পাল্টায় না,
পাল্টায় উপলব্ধির স্তর।

মধুমাখা স্রোতে ডুবে যায় পিপড়ের দল,
চেটে পুটে খায় মধু শিষ্যের দল।
জন্মস্থানের কাছাকাছি গিয়ে হয়ে ওঠে
সংজ্ঞাহীন প্রতিদিন; পথ হারা হারামির দল।

গঙ্গাজলে যদি আদিম শুদ্ধ হতো,
তাহলে কি আর পরপারে নরক রাখিত ঈশ্বর।

কাঁদা জলে অপ্সরা নাচে না
কাঁদা জলে তবুও মুক্তা থাকে
থাকে প্রাণ বাঁচানো সুপেয় জল।

মনের ঈশ্বর অটুট রেখেছে গুপ্তচরবৃত্তি
তাইতো জীবন স্বর্গমুখী।

নীরবে বিছিয়ে দিয়েছি অবিনাশী স্বপ্নের বৈজয়ন্তী
কাকে ধার দিয়েছো তুমি আমার স্বর্গ!

আনন্দ নয় আমার বিছানায়
সমান্তরাল দুঃখ শুয়ে থাকে।
একটু পবিত্র আলো রেখো
কথা দিলাম কিনে নেবো
অঙ্গীকারনামা দিয়ে।

পৃথিবীর বসন্তগুলো রঙ্গীন করে দাও!
কথা দিলাম পরজনমে
তোমার নামের মালা জপে
ঋণ শোধ করে দেবো।

আগে জ্বালা জুড়াও সন্তুষ্ট হলে
শির নত করে প্রশংসার
প্লাবনে ভাসিয়ে দেবো।
পৃথিবীর শেষ সংলাপেও বলতে চাই
শুধু তোমাকে ভালোবাসি।

হৃদয়পুর

আর কত নীরবতা দিবে আমাকে!
জেনে রেখো হে সময়,
তোমার স্রোতের বিপরীতে স্টিমার চলে!

বিরহের যমুনায় স্নান করা পাপী আমি;
তোমার প্রেমের ভগ্নাংশ ভাসিয়ে রেখেছে রাজপ্রাসাদ।

দুই নদীতে হৃদয়পুর খোঁজাখুজি,
রাধা-কৃষ্ণ হয়ে আছে অমর কিসের জোড়ে!

সে কি বিরহ না প্রেম আমার
মাথার উপর হুরমুড় করে ভেঙে পড়ে।
পৃথিবীর ডাকে ঘুম ভাঙ্গেনি,
তাই বলে কী সকাল সকাল
কোকিল ডাকে আমাকে!

গড়িমসি খেলা

রাত এখন অন্ধকার পাহারা দেয়,
আমি পাহারা দেই কালের ঘণ্টা।
বেনীতে তোমার ফণী দোলে;
মহাকাল হাতিয়ে নিয়েছে কালের বীণ।

এই গড়িমসির খেলায়,
অর্জুনের ছাল খেয়ে নিজের ভেজাল মেটাই।
অর্জুন তুমি মনে কষ্ট পোষণ করোনা।
আমারো তো থাকতে হবে চিরকাল নির্ভেজাল।

বারুদের প্রাণহীন গন্ধে মাতোয়ারা
ক্ষমতার সিংহাসন।
ভয় হয় আমার খুব ভয় হয়;
কখন জানি রক্তাক্ত ভোর হয়।
ভোরের রক্ত শুকাতে না শুকাতেই
শোকের বিছানায় ক্ষমতার পিশাচ জš§ হয়।

কিছু অভিজাত ভূত আমাদের চারপাশে।
তোমার ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে বড়ই ক্লান্ত আমি,
তোমার স্টেশন কি পৃথিবীর বাইরে।
নাকি প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত আমার জন্য!

উন্নয়নের ঘামে ভিজে যায় শ্রেণিহীন মানুষের বিছানার তলা।
সে দুঃখ কখনো বলা হয়নি মুখ ফুটে তোমার কাছে।

মানুষ নাকি শুয়োর শ্রেণি অতিক্রম করেছে, কিন্তু কিভাবে!
যতদূর জানি শুয়োর একটি নিরীহ প্রাণী।

এই যা সব সময় সত্যি কথা বলতে হয় না।

ধুসর সময়

জলরঙে আঁকা ধূসর আতঙ্ক
পাথরের গায়ে বালুকণা ফণি তোলে
মেতে আছে জল তরঙ্গের খেলায়।

মস্তিষ্কের থমথমে অবস্থা
দখিনা হাওয়া চারদিকে
একপাশ খোলা আমার জানালা।
মুশকিলের সুগন্ধ অপমানিত বোধ করে
বিপদের মধ্যে বিপদ হাজিরা দেয়।

সৌজন্যমুলক আচরণে অতিষ্ঠ জীবন
কিছু অলৌকিক স্বপ্ন ধার দেয় মহাজন,
তার মাঝে জমিদার খুলে বসে আছে
বিশ্রি কর মেলা।

ক্রোধের মানচিত্র লোভের কালো ছায়া
সিংহের সোনালী কেশের অহংকার
রাষ্ট্রের মাথায় চকচকে টাক হাসে।

শান্তির লেপ-কাঁথা মুড়ে শুয়ে আছে বিপ্লব
মন্দের ভালো হয়ে দৃঢ়চিত্তে বসে আছি
জীর্ণ রাজপ্রাসাদে গ্রীষ্মের তাপদাহে।

কেন যে সৌন্দর্য হারিয়ে যায় সময়ের
উল্টো স্রোতে বিপরীত ভোরের আলোতে
বসে থাকি।

কখন পাখির দল ভাষাহীন শব্দে গান গেয়ে যাবে
জীবন জলীয় বাম্পে মিশে যায়
বন্ধনহীন পাখির গানের সুরে।

যুক্তির দিগন্ত একবার এসেছিল
কিছু পরিচিত ধ্বনি আমার বিপ্লব যাত্রার
গতিতে জল দিয়েছে নীল শৃঙ্গ মেঘমালার দেশে
পৃথিবীর তলানির সুখ আমাকে আশ্রয় দিয়েছে
কোলাহলের মাঝে।

অনি/সিনেটিভি