জয়িতা ভট্টাচার্যের পাঁচটি কবিতা

319

সহসা

ঠিক কবে প্রথম দেখা হয়েছিলো
এখন আর মনে পড়েনা ।
সামান্য যেসব কথা বলা হলো
বিশেষ অর্থ হয় না তার।

মনে পড়ে রাধাচূড়া পাশে ছিলো,
দূরে ছিলো মাটির আঙিনা।
দেহের বাসনা ছিলো জেগে,
কবে আর কেন সেকথা মনে পড়ে না।

একদিন সেতু ভেঙে পড়ে গিয়েছিলো,
একদিন কথারা হারিয়ে গেলো…

একদিন সমুদ্র এলো সহসা দুজনের মাঝে।

নৈশভোজ

রাতের দিকে প্রতিদিন একটু
একটু করে ছোটো হয়ে যাই এখন।
বাড়ি ঘর হেসে হেসে দোল খায়
নিবিড় রাতের তারা
কত কথা বলে

গাছের গায়ে অমৃত চেটে খায়

মাঝরাতে আসে ওই শিশু
হাত দেয় কুসুম যোনি, বৃন্তে নরম জিভ…
নাভি ভরে থাকে বিষ অথবা শৈশব,
ওরা একই শিশির মেখে থাকে।

ছোটো হতে হতে এভাবে নিভে যায় যোনি প্রকোষ্ঠে
তোমার আত্মগ্লানি দাগ রেখে যায়।

অনুবাদ

অনেকদিন কবিতা লিখিনি। আমি, ইদানিং কিছু অনুবাদ করছিলাম। যেমন সবুজ পাতাকে গাঢ় লালে বা নীল আকাশ কমলায় অনুদিত করেছি। বেরঙ মানুষ অনুবাদ করছি একেকটা রঙে বা মিশ্রণে। এভাবে অনুবাদের কাজ করতে গিয়ে আমি কিছু গোপন ব্যাথাও এমনকি কালচে বেগুনিতে অনুবাদ করে ফেললাম। কিন্তু কালো দড়ি আর তাতে ওই সবুজ ধর্ষককে অনুবাদ করে দেখলাম তার বউটি বসে আছে এক কোণে তার শরীরকে লাশে অনুবাদের পর আটকে গেছি মাত্র শেষ লাইনটায়, যেখানে তার চিবুকের নীচে জমে আছে এক বিন্দু অশ্রু আর তার চোখে জমে থাকা প্রাচীন পিঁচুটির মতো ক্রোধ… আমি অনুবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছি ওদের ।

অশনি সংকেত

নিবৃত্তির উঠোন ছেড়ে বসে সুদূরে
তোমার ফুলের রঙ
তোমার ফলের আশ
প্রান্তিক জনের মতো চেয়ে চেয়ে চেয়ে
দেখি

অখণ্ড কবিতা মালা হলুদের মাঠে,
রোদে
গান গায় মাল্লা
পাতা ভাসে কামনায়
নদীর শেকড় থেকে উঠে আসে মাছ কন্যে

এখন গাছের গায়ে রক্তের স্বাদ
এখন জলে আর বনে ঘোর বিবাদ
রাখালের বাঁশিটি হারিয়ে গেছে ইস্কাবনে

আকাশ এখন নিঃস্ব করে
দীর্ঘ দিনের পর অমাবস্যার রাত
বোবা চোখে দেখি
এই পৃথিবী সমান্তরাল॥

অভিসার

প্রতি রাতে ভাবি
আজ ঠিক পৌঁছে যাব
চাঁদের বাড়িতে।
প্রতি রাতে কড়া নাড়ে জন্মান্ধ ভিখারি
আঁধার সুরঙ্গ পথে
হাত ধরে নিয়ে যায়
সে আমাকে নিয়ে যায়
ওখানে খুব কুয়াশা
ওখানে পতঙ্গ
ফ্যাকাশে চাঁদ হতাশায় বারোমাস্যা করে
কালো মেঘে
অন্ধ অভিসার।

অনি/সিনেটিভি