‘দ্যা প্লাটফর্ম’ রিভিউ

198

নিয়াজ মোরশেদ

আপনি যদি সাসপেন্স বা থ্রিলার লাভার হয়ে থাকেন তাহলে ‘the platform’ আপনার জন্য মাস্টওয়াচ। এতটুকু বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত আপনাকে স্ক্রিনে আটকে রাখবে।

এক ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যতের জেলখানা সদৃশ ভার্টিকাল সেলফ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, যার নাম দ্য হোল। বিভিন্ন অপরাধীরা চিরাচরিত জেলখানার বন্দিদশা থেকে বাঁচতে বেছে নিতে পারে এটিকে। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায়ও থাকতে আসে এখানে, ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কিংবা অন্য কিছুর আশায়।

কোন এক সার্টিফিকেট পেতে দ্যা হোলে আসে গোরেং। একদিন ঘুম ভাঙতে সে নিজেকে আবিষ্কার করে দ্য হোলের ৪৮তম লেভেলে। ধীরে ধীরে নিজের সেলমেট ত্রিমাগাসির কাছ থেকে সে জানতে পারে, দ্য হোল অনেকটা টাওয়ারের মতো, যার সেলগুলো সব একটার পর একটা সাজানো, এবং প্রতিটি সেলে বাস করে দুজন করে। প্রত্যেক বন্দি তার পছন্দসই যেকোনো একটি বস্তু রাখতে পারে সাথে।

তবে দ্য হোলের সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এখানে প্রতি সেলের জন্য আলাদা কোনো খাবারের ব্যবস্থা নেই। একদম প্রথম লেভেলের সেলে প্রচুর পরিমাণ খাবার একটি প্ল্যাটফর্মে থরে থরে সাজিয়ে দেয়া হয়। ক্রমে সেই প্ল্যাটফর্মটি নিচে নামতে থাকে, আর প্রতি লেভেলের বন্দিদ্বয় খেতে থাকে তাদের পূর্ববর্তী সেলের মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার।

এভাবেই সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থানকারী সেলের মানুষদের খাবারের কোনো অভাব হয় না। কিন্তু খাদ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম যতই নিচের দিকে নামতে থাকে, খাবারের পরিমাণ ততই কমতে থাকে। এবং এক পর্যায়ে খাবার পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়। মাঝামাঝি লেভেলের সেলবাসীরা যদিও বা কিছু পায়, নিচের দিকের সেলবাসীদের খাওয়ার জন্য কিছুই বেঁচে থাকে না।

এদিকে আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হলো, সকল বন্দির অবস্থানের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেই। প্রত্যেক লেভেলে তাদের অবস্থানের সময়সীমা এক মাস করে। এ মাসে যারা মাঝামাঝি কোনো লেভেলে আছে, পরের মাসেই তারা সর্বোচ্চ কিংবা সর্বনিম্ন লেভেলে চলে যেতে পারে। আবার একমাস পর সেই অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটবে।

এখন কথা হলো কোমল হৃদয়ের, নীতি ও আদর্শে বলীয়ান গোরেংয়ের দ্য হোলের জীবন ঠিক কোনদিকে ধাবিত হয়, সে কি অন্যান্য বন্দিদের মতোই হিংস্র পশুতে পরিণত হয়, নাকি নিজের মনুষ্যত্ব ধরে রাখতে সমর্থ হয়? জানতে হলে দেখতে হবে টিপিকাল হরর জনরার মুভিটি।

অনি/সিনেটিভি