এটা কোন গল্প নয় : একজনের জীবনে ঘটা কাহিনি

222

বলা হয়ে থাকে, স্পেশাল কিছু মুভি আছে যা সমাজ কিংবা ব্যক্তিজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। ঠিক এমনইভাবে কোনো ব্যক্তিকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে।

TChowdhurt (2002)

এটা কোনো গল্প নয়, একজন ব্যাক্তির জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী; পোলান্ডের প্রখ্যাত পিয়ানিস্ট এবং ক্লাসিক কম্পোজার Wladyslaw Szpilman’র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় শুরুতেই জার্মানের দখলে চলে আসে পোলান্ড। জার্মানী সৈনিকরা পোলিশ ইহুদিদের উপর ধ্বংসলীলা এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো শুরু করে একসময়। বিশেষ করে পোলান্ডের রাজধানী ওয়ার্শো-ঘেটো শহরের প্রায় মেক্সিমাম ইহুদীকেই মেরে ফেলা হয়। সেখানেই পুরো বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর সার্ভাইভ করে টিকে থাকেন স্পিলম্যান।

সবাইকে হারিয়ে এই শহরেই এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও কয়েক বছর কিভাবে সে টিকে বা বেঁচে থাকতে পেরেছে, তা জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে দেখে নিতে হবে অসাধারণ এই মুভিটি। একই টাইটেলে স্পিলম্যানের লেখা আত্মজীবনীমূলক বইটি অবলম্বনে মুভিটি নির্মিত হয়েছে। এটি পরিচালনায় ছিলেন বিখ্যাত ডিরেক্টর রোমান পোলানস্কি। তার অর্ধ-শতবর্ষেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারের সেরা কাজ বলা হয়ে থাকে এটিকে। বলাবাহুল্য এটির জন্য সে অস্কার জিতেছিলো।

মুভিটির স্টোরি স্ক্রীনপ্লে, এডিটিং, কস্টিউম ডিজাইন, সিনেমাটোগ্রাফি অর্থাৎ এককথায় সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশন পারফেক্ট এবং চমৎকার ছিলো।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছেন এড্রেইন ব্রোডী। স্পীলম্যানের চরিত্রে অনবদ্য পারফরম্যান্স তাকে প্রথমবারের মতো এনে দিয়েছিলো অস্কার সেরা অভিনেতার পুরষ্কার।

অনেকই বলিউড কিংবা হলিউডের একতরফা যুদ্ধের মুভি দেখে দেখে বিরক্ত, যেখানে শুধুমাত্র পাকিস্তান কিংবা জার্মানিদের দোষী দেখানো হয় আবার তাদেরকে হারানোও হয়। কিন্তু এই মুভিতে আমেরিকার সুনাম গাওয়া হয়নি বরং হিংস্র জার্মানদের মধ্যেও যে দুই-একটা মনুষ্যত্ববোধের চিহ্ন ছিলো তাও দেখানো হয়েছে চমৎকার উপস্থাপনে। মোটকথা, মুভিটিতে আপনি সবকিছু নিরপেক্ষ পাবেন বলেই আমি মনে করি।

অন্যতম বেস্ট সার্ভাইভাল কিংবা যুদ্ধ রিলেটেড মুভিটিকে অনেক মুভি বিশেষজ্ঞ কিংবা সাইট must see before die or so called something লিস্টে এই মুভিটিকে স্থান দিয়ে থাকেন।

অনি/সিনেটিভি