সামিরা ইসলাম এর একগুচ্ছ কবিতা

352

ঘাসফুল

তুমুল বৃষ্টি তবু ঘাস গজাই
ভালোবাসার ময়দানে
যদি হৃদয়ের লোম পঁচে যায়! ঘাস পঁচে যায়ই তো…
ঐযে…পাখিডাকা ভোরে স্যাঁতস্যাঁতে ঘাস মাড়িয়ে যেতে/যেতাম চম্পকের উদ্দ্যেশ্যে, মনে আছে?
পাঁচ ছ’টা ভাঙা ডাল-ও লাগিয়েছিলাম
এই তো সেদিনও দেখলাম-
ঘন হয়েছে আর প্রতিটা গাছের
ডগায় ডগায় ফুল ফুটেছে
বলব কি, আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাও গাঢ় হয়েছে?
ঘাসফড়িং একদিন ঠিকই উড়ে আসবে ঘাসের হৃদয় নিয়ে- উচা ডালে ।

রবীর কবিতা পাঠ

তোমার হাতে হাত রেখে নকশিকাঁথার মতো
পূর্নিমার আলোয় স্বপ্ন সেলাই করে করে দেব
স্নায়ুকোষে থেকে যাবে তোমার-ই ছন্দছবি
দূরের চর পেরিয়ে নদীর ঘোলাজলে ভেসে উঠবে
অবসাদের নিরন্তর হৃদস্পন্দন। শিহরণ জাগাবো কবি…
ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে চির-ভাসমান ফনিমনসা হয়ে হাসবে প্রাণের রবিবাবু
দৃশ্যকে কুড়িয়ে এনে বোধের বাগানে প্রতিস্থাপিত করব ,
আমি রবীর একটি কবিতা পাঠ করছি।

জলপ্রপাত

একবার নভোমন্ডলে গিয়েছিলাম।
চোখ খুলেই দেখলাম-
উত্তপ্ত মরুভুমির কিনারে
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বৃষ্টি আর বজ্র।
যে চমকাতে চায়, যে গলতে চায়,
যে যে ছুটাছুটিতে মত্ত, আমিও তাই এখন নভোমন্ডলগ্রস্থ।
আতকা গগণচুম্বিত ধ্বনিতে সৌর দেবতা সম্মুখে!
আমার দুহাত ভরে তুলে দিলেন বৃষ্টিসহ বজ্রকেও।
অতঃপর যা ঘটলো..
পর্বত হয়ে গেলো জলপর্বত পথ হয়ে গেলো জলপথ।

অনি/সিনেটিভি