সামিরা ইসলাম এর একগুচ্ছ কবিতা

258

ঘাসফুল বাগান

সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি তবুও ঘাসফুল
রোপণ করি ভালোবাসার উষ্ণতায়।
চিন্তা হয়নি যদি গাছগুলো পঁচে যায়!
ঐযে…পাখিডাকা ভোরে বৃষ্টির মধ্যে
বের হতাম চম্পকের উদ্দ্যেশ্যে,
মনে আছে তোমার?
পাঁচ ছ’টা ভাঙা ডাল লাগিয়েছিলাম।
এইতো সেদিনও দেখে এলাম
এত্ত ঘন হয়েছে আর প্রতিটা গাছের
ডগায় ডগায় ফুল ফুটেছে।
তাই আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাও গাঢ় হয়েছে।
ঘাসফড়িং একদিন ঠিকই উড়বে ঘাসফুল বাগানে।

প্রাণের রবিবাবু

তোমার হাতে হাত রেখে নকশিকাঁথার মতো
পূর্নিমার আলোয় স্বপ্ন সেলাই করে করে দেব প্রিয়
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে থেকে যাবে আমারি প্রতিচ্ছবি।
ঐ দূরের চর পেরিয়ে নদীর ঘোলাজলে ভেসে উঠবে
অবসাদের নিরন্তর হৃদস্পন্দনে শিহরণ জাগাবে কবি
ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে সদ্য ফোঁটা শাপলা হয়ে হাসে
প্রাণের রবিবাবু।
প্রেমময় বোধের জাগরণ হোক রবির কবিতা। তাই
তোমার অন্তর্নিহিত জ্ঞানে হাবুডুবু খায় আকাশ ও নদী।

জলপ্রপাত

একবার নভোমন্ডলে গিয়েছিলাম।
চোখ খুলেই দেখলাম,
ধূসর উত্তপ্ত মরুভুমির একপ্রান্তে
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বৃষ্টি আর বজ্র।
তারা ঝরতে চাই, গলতে চাই,
ছুটাছুটিতে মত্ত, থাকতে চায় না নভোমন্ডলে।
হঠাৎ, গগণচুম্বিত ধ্বনিতে সৌর দেবতা সম্মুখে!
আমার দুহাত ভরে তুলে দিলেন বৃষ্টিসহ বজ্রকেও।
অতঃপর যা ঘটলো..
পর্বত হয়ে গেলো জলপর্বত পথ হয়ে গেলো জলপথ।

অনি/সিনেটিভি