নাচঘরে খুলে রাখি বাম পাঁজরের হাঁড়

274

মোনাজাত

এই ধরো হাত…। খুলে যাক খোদার আরশ
তুমি আমার নামে প্রার্থনা করো— জাগতিকসুখ, সমূহকান্না। তোমার নামে রোপন করেছি পাজরের গাছ, লাল লাল কলিজাবন। থর থর করে কাঁপছে আকাশ—মেঘগুলো বৃষ্টি হোক… বৃষ্টিরা পাখি

পাখির ডানায় বার্তা পাঠাবো প্রণয়ের।

এই ধরো হাত…। জান্নাত থেকে মেশ’ক আম্বরের গন্ধ এসে ভাসিয়ে নিক জগৎ
তুমি আমার নামে খুলে দাও— স্তনফুল, কোমরের ভাঁজ। তোমার নামে নদী কিনেছি রক্তের নদী, শিরা-উপশিরাগুলো জলেরও অধিক জল।
বুকের ভিতর টুক-টুক করে দৌড়াচ্ছে হর্ষবর্ধনের ঘোড়া— ঘোড়াগুলো শান্তফড়িং হোক… ফড়িংগুলো ফুল

ফুলের দরোজা খুলে ডিঙ্গীনৌকোর মতোন সঙ্গমনৃত্য তুলবো শরীরে তবলার।

আযানের ধ্বনির মতোন মিষ্টি হোক সময়… সম্পর্ক। রাত-দিন আমাকে নয়নে বসিয়ে মোনাজাত করো।
ওইদিকে, আল্লাহু আকবার… আল্লাহু আকবার বলে আমিও স্মরণ করছি আমাদের প্রণয়… জীবন যেখানে যেমন।

কাহিল লাগিলো বেশ

গেরুয়া লুঙ্গির গীটে_ কাহিল লাগিলো বেশ; শক্ত… বাদামী পায়জামা খুলে_
ওড়ে যায় শান্তির কৈতর; সফেদ…
জানাযা’য় কতো শত দাঁড়ায়_ লাউফুলের মতোন সুরত; যে যার… মণে মণে মনে পড়ে কুদরত_
খোদার মায়াবী আরস; কেপে ওঠে…
দুল খায় মানুষের সাথে মানুষের_ সংসার ধর্ম বোঝাপড়া; মাবুদ… ওঠিয়ে নিয়ে চলো, যে যার_
পিরিতের মানু লগে করে; দিগন্তে…
মিলিয়ে যাক সৃষ্টি; লতাগুল্ম__
ফুল ফল পাখি; গেরুয়া জীবন রাখি…

কাহিল লাগিলো বেশ; শক্ত…

জীবন

একটু পরই ফাঁসি কার্যকর করা হবে আপনার। কনডেম সেলে ম ম করছে হাওয়া। দু’জন পেয়াদা আপনাকে দু’দিক থেকে ধরে মঞ্চের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আপনার দু’পা শক্ত রশি দিয়ে বাঁধা হচ্ছে, দু’হাত পেছনে করে। আপনার মাথা কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতেছে জল্লাদ। আপনার মা, ভাই, বোন আপনার আব্বা গেটের বাইরে আপনার লাশের জন্য প্রতীক্ষা করতেছে। আপনি বুঝতে পারছেন আপনি মরে যাচ্ছেন… কিন্তু চিৎকার করে স্বজনদের ডাকতে পারছেন না, দেখতে পারছেন না।

জীবন, তোমাকে লাশ ভেবে কাঁধে করে বহন করছি অন্য আরেকটা জীবন

অঙ্গগন্ধ

নাচঘরে খুলে রাখি বাম পাঁজরের হাঁড়
স্নানঘরে এ-দেহটা মনে হয় আয়না
কেউ এসে তাকিয়ে রয়
কেউ এসে ভেঙে যায়… থর থর

কেউ একজন বুকের ভেতর বসে
খিল খিল করে হেসে যায়
কেউ একজন গ্রহণ নয়
কবিকে ধারণ করছেন মমতায়

গোপনে গন্ধ পাই… কমলার।

যারে বাসোভালো
মুখপানে তাকাও
তাকিয়ে থাকো— তাকিয়েই থাকো…
দেখো, কিছু যদি মেলে। কখনো রাগ
ঘুমভাঙা মুখের গন্ধটা ফুল হয়ে ফুটে— দোলনচাঁপা।