মনের মাঝে কন্টক চাষ করে চলেছি বহুদিন

265

অবহেলা

আমি তার নীলাকাশ হতে চাইলাম,
হতে চাইলাম সাদা কাশফুলের বন।
সে ছুঁয়ে দিক আমার সবুজ পাতার পা,
ছুঁয়ে দিক নিরবতায় ভেঙে যাওয়া মন।
দুঃখ হয় কোনটাই পারলো না—
বরং চামড়ার পিঠে হাত বুলিয়ে নিলো।
বললো তুমি যা চাও, আমি তা নই!
তোমার ভাবনার আকাশে থাকে মেঘ
জমানো অশ্রুতে ঝরে রাতের শিশির।
আর আমি সেই শিশিরের বিন্দু
যার দিকে তুমি অবহেলার চোখে তাকাও।

পাথরের দীর্ঘশ্বাস

এই যে মনের মাঝে কন্টক চাষ করে চলেছি বহুদিন!
তার খোঁজ কি নিয়েছো কোনদিন!
কখনোও কি জানতে চেয়েছো?
কেন হৃদয়ে ভালোবাসার গোলাপ না ফুটিয়ে
যত্ন করে বড় করেছি কাঁটা?
ভালোতো সবাই বাসতে চায়, সবাইতো রঙিন দুনিয়ায় বাঁচতে চায় হরহামেশাই।
কিন্তুু কেউ কি কখনোও দেখতে চায় কুৎসিত আঁধার?
থকথকে যন্ত্রণায় পোড়া ঘায়ের পোকা, বিষাদের কোল ঘেষা পাপের ছায়া,
ভ্যাপসা দুপুরের রোদে চিকচিক করা কর্কশ স্বর,
চায় না!
অথচ আমি আনন্দের চেয়ে নিরানন্দকে জায়গা দিয়েছি চোখের কোনে,
ফুলের বদলে কাঁটাকে তুলে নিয়েছি বুকের মধ্যখানে।
আমি যাকে দেখি সে আমার নয়,
তুমি যাকে দেখো সে তোমার নয়,
তবুও তুমি আমি করে করে জীবনটাকেই করি পার।
মানুষ যে পথটায় হাঁটে সেই পথটায় পড়ে দীর্ঘ ছায়া,
সাথে নিয়ে চলে পাথরের দীর্ঘশ্বাস!
পিছনে ফেলে রেখে দিয়ে যায় অর্ধমানবের মায়া।
আমরা ছুটে চলি আগন্তুুক মায়ার পিছে —
শামুকভাঙা খোলসের কাছে বসে, রক্তাত্ব হই নিত্যদিন।

চোখের সমুদ্র

এখন তুমি আমাকে ভুলে যেতে চাও
তবে ভুলে যাও, ভুলে যাও, ভুলে যাও
চিরদিনের জন্যই তুমি ভুলে যাও
মরিচা ধরা ছুরি খুন্তির মত ফেলে রেখে,
কোন বর্ষার জলে আমার চোখ ভিজিয়ে দাও।
আমার চোখ দু’টিতে যেন সমুদ্র হয়
জলোচ্ছ্বাসের উত্তাল ঢেউয়ে মিশে গিয়ে
বাষ্পাকারে উড়ন্ত জলরাশির মেঘে সঞ্চিত হয়।
অসহায় গাছদের কান্নার হাহাকারে —
এই ধরণীর চিবুক বেয়ে বেয়ে জল গড়িয়ে যায়।
আমাকে ভুলে যেতে চাও তবে
তুমি সারাজীবনের জন্যই এবার ভুলে যাও।
আমার স্পর্শের নরম বুকে খোদাই করা যে নাম
তাকে চিরদিনের জন্য তুমি মুছে দিয়ে যাও।
তুমি মুছে দিয়ে যাও আমার প্রেম
তুমি নিয়ে চলে যাও অচল যত স্মৃতি
ফেলে দিয়ে যাও আমার প্রাণহীন সব কলম
আমি কুড়িয়ে জমা রাখি পুরনো ঘরে
তবু বেঁচে থাক শূন্যতায় শূলে চড়া মৃত্যুর দহন।