দৈন্যসন্ধ্যা উঁচু হয়ে আছে স্মৃতির কব্জায়

263

দশা

যে পিয়ানোতে জীবন সুন্দর
তার তারগুলো একে একে ছিঁড়ে ঝুলছে-
এলোমেলো বিশৃঙ্খল, খসে পড়ছে লবঙ্গপাতা;
আঙুল ছোঁয়ায় খটবট সুর, অসুরের হাঙ্গামা।
যে গিটারে যাপন সুন্দর
তার তারেও মরিচা আধার, নখ ছোঁয়ালে মাংস কেটে
রক্তের নালা,
যন্ত্রণা নেমে আসে পদ্মকোমল মন গেরস্তে।

যে তানপুরা পুবের তরঙ্গ তোলে
তা তো ভাঙ্গা! সান্দ্রচিড় ছড়ানো ছিটানো
কাঁচের ফালির মতন- পোঁচে-পোঁটে জঘন্য খাদ;
সংসার, সংসার
আদিগন্ত তবলার তাল-কাটা সংগীত সন্ধ্যা।

যে হারমোনিয়ামের রিডে দিন-রাত্রির অমৃত ঘন্টাধ্বনি
তার খাঁজে খাঁজে পন্নগ-নি:শ্বাস।

২৫.১০.২০২০

কোটি পাখির জন্ম হয়

কবিকে জেলে পুরলে কোটি পাখির জন্ম হয়
পাখিরা আকাশ চিড়ে উড়ে যায় চৌথ আকাশে।

চিল জেলে পোরা যায়
পাখিকে জেলে পোরে পৃথিবীর সে যোগ্যতা নেই।
রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রবর কবির পেছনে স্পাই লাগিয়ে রেখেছে।
ফাঁদ পেতে রেখেছে।
স্থল মাইন পুঁতে রেখেছে কবির সীমান্তের চার-পাশে।
কবির তাতে কিছুই যায় আসে না
বন্দী শিবির থেকেও কবির কবিতা উড়ে যায়
বৈকুন্ঠ পাড়।
কোনো গারদ প্রাচীর পারেনি রাখতে
কবিকে প্রাচীরে ধরে।

কবিরও দিন রাত্রি আছে
তেষ্টা আছে, ঘুম আছে; কবিও মানুষ স্বভাবী…
কবির জন্য গারদখানা নয়
কবির জন্য কথার টেবিল, আত্মশুদ্ধির বিশ্রামাগার
যেন, কবির গর্ভাশয় ম্লান না হয় কোনো দু:খের আঁচরে।
কবিকে কারাগারে পুরলে কবি নয়
পৃথিবীই অধিক কলঙ্কিত হয়।

২৭.১০.২০২০

সহবেদনায়

আমার
কোনো শৈশব নেই,
জঙ্গলে ঝুলে আছে কিশোর বিকাল
দৈন্যসন্ধ্যা উঁচু হয়ে আছে স্মৃতির কব্জায়।
ইট আর ধুলার মন্ডে কেটেছে যৌবন
ব্যর্থ প্রেমিক হয়ে হাত পেতে গেছি প্রেমিকাদের কাছে
কারো চোখ ফেরেনি আমার দিকে, যেমন
তুমিও শোন না কোনো আকুতি।

কালের ঘড়ি ঢং ঢং বাজে।

আমি
বাঁশি হাতে চেয়েছি কৃপা, সামন্য অনুগ্রহ, একটা চুমু
কেউ কেউ বসিয়ে দিয়েছে দাঁত!
আমি তাদের মুখ দেখিনি- বিষ বুঝে চোখ বুজেছি জ্বালায়
কাত হয়ে থেকেছি শুয়ে ঘা নিয়ে পিঠে
বুক খুলে দেখাইনি কাউকে, কখনো; ফের যদি
ঘাই খাই বুকে?
পশ্চিমে টকটকে লাল গেঁথে আছে
আমারই সব হারানোর অকুতভয়-বেদনার সহবেদনায়।
২৮.১০.২০২০