ফখরুল হাসানের কবিতা

327

লজ্জা

এ শহর আমার নয়; কাণ্ড জ্ঞানহীন মাতালের আশ্রম
অথচ আমরাই কুমিরের হা-মুখ
সমাধির চিত্রকল্প গড়ে তুলি আঙুল টিপে!

চারদিকে আর্তচিৎকার— নব নব বাঘের গর্জনে
গুমোট অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে নাগরিক মন
ভুলের প্রায়শ্চিত্তে বিনম্র লজ্জায় আজ।

দণ্ড প্রাপ্ত সময়

গুচ্ছগ্রামের ছন ঘরের মতো
হারিয়ে যাচ্ছে সময়
রাজশহরের ম্যানহোলে।
পরিবর্তনের সেই খেলায়
সবাই পাকাপোক্ত অভিনেতা।
বেঁচে থাকার প্রত্যাশায়!
পোড়খাওয়া জীবনকে
কাটাছেড়া করে সময়!
জীবন যেন চামড়া কাটার ছুরি,
রক্তাক্ত করে অভাবের করালগ্রাস।
ঝাপসা চোখে প্রতিনিয়ত দেখি
তাই, ছাইরঙের সন্ধ্যা।

জানালাহীন মাটির ঘর

জগৎখ্যাত সার্চ লাইট দিয়ে খুঁজে পেলাম না
হারানো শৈশব আর রয়েলগুলি খেলার সময়!
তবু্ও হৃদপিণ্ডের ক্যানভাসে আজও তার আলামত…
হেসেই উড়িয়ে দিলাম নদীর মতো বয়ে যাওয়া সময়।
ডুবে যাচ্ছে সূর্য, তবুও হালখাতার সময়টুকুও নেই!
নষ্ট হওয়া ক্ষুরধার বিবেক তবুও জাগে না, আহ্!
চোখের পলকে খেলাঘর ভেঙে; শেষ হবে সব অহংকার।
অকর্ম হৃদয়ের ভেতর কেবল জেগে আছে বিশ্বাস…
শুরু থেকে শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরছি মাটির ঘরে…
নিদ্রিত চোখ কচলে দেখি জানালাহীন মাটির বিছানা…