লালিত স্বপ্ন পূর্ণতা পাচ্ছে জো বাইডেনের!

208

বয়স ৭৭! দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবন তার। হোয়াইট হাউসে যাবার যে স্বপ্ন বহুদিন থেকে লালন করে আসছেন তা এবার পূর্ণতা পাচ্ছে।

১৯৮৭ সালে একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে নামেন। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি অন্যের লেখা চুরি করে নিজর নামে চালিয়েছেন! এই অভিযোগের সূত্র ধরে আরেকটা অভিযোগ সামনে আনা হয়। ছাত্র জীবনের একটি ঘটনা, যখন তিনি আইনের ছাত্র হিসেবে তার সাইটেশন পেপারে আরেকজনের লেখা হুবহু ব্যবহার করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, সেটা যে নিয়ম বহির্ভূত তা তিনি জানতেন না।

এমন অসততার অভিযোগ আনা হলে তিনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন!

পরে তার এক জীবনীকারকে মি. বাইডেন বলেছিলেন, ওই ঘটনা তাকে “কুরে কুরে খেয়েছে। নিজেকে আমি চিরকাল একজন সৎ মানুষ হিসাবে মনে করেছি। সেই জায়গাটা বিরাট ধাক্কা খেয়েছে।”

আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “এর জন্য দায়ী আমি নিজে। নিজের ওপর রাগ আর হতাশায় ভুগছি। আমেরিকার মানুষকে আমি কীভাবে বোঝাবো এটাই জো বাইডেনের আসল পরিচয় নয়। এটা শুধু আমার মস্ত একটা ভুল”!

এরপর স্বজন হারানো, স্ত্রী-পুত্রবিয়োগ, নিজের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সহ নানা সংকটে আর ২০ বছর নিজের সঙ্গে সংগ্রাম করেন বাইডেন।

২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে নামেন। তবে বারাক ওবামার সঙ্গে পেরে উঠেননি। যদিও ওবামা তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে নেন। ফের ২০১৬ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাননি, হিলারির কাছে হেরে যান।

কিন্তু হাল ছাড়েননি জো বাইডেন! তার স্বপ্ন ছিলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। অবশেষে ২০২০ সালের প্রেনিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন লাভ করেন। সেখানেও অনিশ্চয়তা ছিলো। পেতে পেতেই যেন হেরে যাচ্ছিলেন। তবে একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মনোনয়ন পান“

জো বাইডেন প্রায়ই একটা কথা বলেন, “বাবার একটা কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা – কে তোমাকে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সেটা বড় কথা নয়, কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসাবে সেটাই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।”

সূত্র: সিএনএন, ফোবর্স, বিবিসি

অনি/সিনেটিভি