রবি ঠাকুর এবং জীবননান্দ

316

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
জীবননান্দ দাশ রবি ঠাকুর নিয়ে পাঁচ-ছয়টি কবিতা লিখেন। তার সব ক’টির শিরোনাম ‘রবীন্দ্রনাথ’। কবিতাগুলো ততকালীন- পূর্বাশা, পরিচয়, পঁচিশে বৈশাখ, প্রতিক্ষণ এবং ঊষা পত্রিকায় ছাপা হয়। (মতান্তরে আরো একটি অপ্রকাশিত কবিতার কথা জানা যায়।) ‘ঊষা’ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৬১ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতাটি হচ্ছে:


‘মানুষের মনে দীপ্তি আছে
তাই রোজ নক্ষত্র ও সূর্য মধুর—
এ রকম কথা যেন শোনা যেতো কোনো একদিন,
আজ সেই বক্তা ঢের দূর
চলে গেছে মনে হয় তবু;
আমাদের আজকের ইতিহাস হিমে
নিমজ্জিত হয়ে আছে বলে
ওরা ভাবে নীল হয়ে গিয়েছে অন্তিমে
সৃষ্টির প্রথম নাদ—শিব ও সৌন্দর্য;
তবুও মূল্য ফিরে আসে
নতুন সময়তীরে সার্বভৌম সত্যের মতন
মানুষের চেতনায় আশায় প্রয়াসে।’

জীবননান্দ দাশ তাঁর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা-সম্মান দেখালেও জীবন বাবুকে রবি ঠাকুর ‘পাত্তা’ দিতে চান নি। অথচ অনেক নিজ্ঞাপনেও তাঁর ভাষার ‘মাধুর্য’ টের পাওয়া যায়!
রবি ঠাকুর দুটি চিরকুটের মতো যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতেই তা টের পাওয়া যায়। যেমন: ‘কল্যাণীয়েষু, তোমার কবিত্বশক্তি আছে তাতে সন্দেহমাত্র নেই। কিন্তু ভাষা প্রভৃতি নিয়ে এত জবরদস্তি কর কেন বুঝতে পারিনে। কাব্যের মুদ্রাদোষটা ওস্তাদিকে পরিহাসিত করে। বড়ো জাতের রচনার মধ্যে একটা শান্তি আছে, যেখানে তার ব্যাঘাত দেখি সেখানে স্থায়িত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ জন্মে। জোর দেখানো যে জোরের প্রমাণ তা নয় বরঞ্চ উলটো। ইতি। শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’।


অন্য পত্রটিতে সামান্য প্রশংসা আছে বটে! ‘তোমার কবিতা পড়ে খুশি হয়েছি। তোমার লেখায় রস আছে, স্বকীয়তা আছে এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে’। এই পর্যন্তই!

অনি/সিনেটিভি