106

“Sumon Rahman সুমন, আমরা অকারণ কথা চালাচালি করছি, লোকে নিশ্চয়ই হাসছে। আমি মনের থেকে বিশ্বাস করি যে, আপনিও জাত লেখক। এই বিশ্বাসে কোনো খাদ নেই এবং আপনার ও আমার দুজনের দুই কর্পোরেটে কাজ করার কোনো সম্পর্ক নেই। বাদ দেন। সামনে আগাই লেখালেখি নিয়ে। পারফেক্ট আমরা কেউই না। ভালবাসা।”
— Mashrur Arefin

  • আপনাকেও ভালোবাসা, মাসরুর। চলেন, বাদ দেয়ার আগে একবার রিক্যাপ করে নিই:

    আমি লিখেছিলাম:

“বিলম্বিত পুঁজিবাদের এই ভূবনজোড়া ফাঁদে সাহিত্য একলা বসে থাকে! তার কোনো সহযাত্রী নাই। বাজারব্যবস্থার ঠাপে রূচিবোধ উধাও হয়ে গেছে। বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ছদ্মপাঠক, সুবিধাভোগী সম্পাদক আর ভৌতিক লম্পট। টাপুর টুপুর টাইপরাইটারের ছন্দে বৃষ্টি নামে সারা মতিঝিলে। করোনায় চাকরিশূন্য কবি হানা দেয় কর্পোরেটের দুয়ারে, নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয় সাহিত্যের ইতিহাস। নাছোড়বান্দা শ্রাবণে ভিজে ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাওয়া উপমাগুলির জন্য তেমন কোনো শুশ্রুষা নাই। তাদের সামান্য ফিসফাস এই হল্লাময় দাসবাজারে আজ আর কারো কান অব্দি পৌঁছায় না।
সাহিত্যের এই নিউ নরমাল হেটেরোটোপিয়ায় নিজেকে চিনতে পারছেন তো? নাকি বাজার-স্পন্দিত বুকে নিজেরেই বোর্হেস ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন?” [সুমন রহমান]

তার জবাবে আমার বয়োজ্যেষ্ঠ রাজু আলাউদ্দিন লিখলেন:

“ইতর প্রাণিদের সঙ্গে কখনোই বিরোধে যাওয়ার মতো ইচ্ছে যেমন নেই, তেমনি রুচিও নেই। তদুপরি সময়ের অভাব আমাকে নিরুৎসাহিত করে আরও বেশি। যার মধ্যে সততা নেই বিন্দুমাত্র, বরং সততার মুখোশে যে অসততার ফেরি করে, তার প্রতি বিবমিষা জানানো ছাড়া আর কী করার থাকতে পারে। কথা বলে কর্পোরেটের বিরুদ্ধে, কিন্তু কার্যত যে কিনা কর্পোরেটের ঘেটুপুত্র হিসেবে নিজের পায়ুপথকে এজমালি করে রেখেছে, সে কিনা ইনিয়ে বিনিয়ে কর্পোরেটের বিরুদ্ধে বলে। অন্য কোনো প্রতিভাবানের পুস্তক নয়, নিজেরই কর্পোরেট প্রভু, যে- প্রভুর কিতাবের স্তুতিবাক্য লিখতে হয় গোলামিবোধ থেকে। এই গোলাম দার্শনিকতার কথা শোনায়—কোথায় ? কানার হাটবাজারে। নিজের কর্পোরেটের পক্ষপাতিত্ব করে এই `লিবারেল’ দার্শনিক। কেন করে? কারণ এক কর্পোরেটের বিরুদ্ধে অন্য কর্পোরেটের অর্থনৈতিক লড়াইয়ে সে বেতনভুক্ত পদাতিক সৈনিক। তদুপরি আছে সাহিত্যিক স্বার্থ। স্বার্থের কারণে পুরুষ-বেশ্যারা নির্লজ্জের মতো যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। জীবনানন্দ-প্রশ্নে সে অখাদ্য এক কমলালেবুর পাশে দাঁড়ায়। সাহিত্যে এসব পুরুষ-বেশ্যার প্রাদুর্ভাব অনেক।” [রাজু আলাউদ্দিন]

আপনি পরিষ্কার করে জানালেন, এই রাজু আলাউদ্দিন যাকে “কর্পোরেটের ঘেঁটুপুত্র” কিংবা “পুরুষবেশ্যা” বলছেন, সেটা আমি। কেন? কারণ আমি কাজী আনিস আহমেদের বই রিভিউ করেছি, এবং শাহাদুজ্জামানের লেখার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আপনার প্রতি আমার কয়েকটা জিজ্ঞাসা, মাসরুর:

১. কাজী আনিস কিংবা শাহাদুজ্জামান বাংলাদেশের বা বাংলা সাহিত্যের কী এমন ক্ষতি করে ফেললেন যে, তাদের পাশে দাঁড়ালে, কিংবা তাদের বই নিয়ে আলোচনা করলে আমাকে পুরুষবেশ্যা হয়ে যেতে হবে? রাজুর এই বক্তব্যের দায় আপনি কেন নিতে গেলেন?

২. আমার লেখায় শিষ্টাচারের কোনো অভাব ছিল কিনা, আমি কোনো ব্যক্তির নামোল্লেখ করেছিলাম কি না, যার কারণে রাজু আলাউদ্দিনের এই নোংরা বক্তব্যকে আপনার এনডোর্স করতে হল?

৩. রাজুর এই বক্তব্য যদি আপনার কাছে নোংরা কিংবা আপত্তিকর মনে হয়, তবে সেটি থেকে আপনার সমর্থন প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করে নেবেন কিনা?

৪. এরকম নোংরা বক্তব্য দেয়ার জন্য রাজু আলাউদ্দিনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলবেন কিনা?


অনি/সিনেটিভি