‘লায়ন’ এই সিংহ জঙ্গলের নয়

327

আলী আফতাব

আমেরিকান উপন্যাসিক থমাস উলফ -এর ‘ইউ কান্ট গো হোম’ যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের মনে পড়বেই, কাহিনির প্রধান চরিত্র জর্জ ওয়েবারের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সেই আকুল তাড়না৷ যেখানে ফিরে গিয়ে ওয়েবার আবিষ্কার করে, সে গ্রামে তার আর ঘর নেই৷ সব পাল্টে গিয়েছে। কিন্তু ওয়েবারের মতো এতটা দুর্ভাগা নয় সারু (আসলে শেরু)। তার ঘর আছে। ২৫ বছর ধরে খুঁজে সে যখন পৌঁছায় তার ঘরে, সে ঘর তখনও আছে। ঘরের মানুষের কেউ কেউ হয়তো আর নেই। কিন্তু ঘর তাকে ছেড়ে যায়নি।

সারু ব্রিরলে’র লেখা ‘লং ওয়ে হোম’ অবলম্বনে তৈরি হওয়া ছবি ‘লায়ন’ এর প্রধান চরিত্রই এই সারু। বোঝাই যায়, কাহিনিটি সারু ব্রিরলের আত্মজৈবনিক।

পাঁচ বছর বয়সে উত্তর ভারতের এক স্টেশনে এক খালি ট্রেনে উঠে ঘুমিয়ে পড়ে সারু (সানি পওয়ার)। ঘুম যখন ভাঙে চলন্ত ট্রেন তখন পশ্চিমবঙ্গে। হাওড়া স্টেশনে এসে ট্রেন থেকে যখন সে মুক্তি পায়, ততক্ষণে সে; হারিয়ে গিয়েছে।

ছবির প্রথম আর্ধে সানি পওয়ার এর অভিনয় সবার চোখে জল নিয়ে আসে। এরই মধ্যে সারু হারিয়ে ফেলেছে পাথর খাদানে কাজ করা মা, খুচরো পয়সা রোজগার করা দাদা, আর আগাছায় জন্মানো ফুল হাতে বসে থাকা বোনের থেকে। তারপর অনাথ আশ্রম। তারপর অস্ট্রেলিয়া। দত্তক নেওয়া বাবা -মা’র কাছে। ২৫ বছর বাদে খুঁজে-খুঁজে আবার সারুর ফিরে আসা সেই উত্তর ভারতের গ্রামে৷

থই -থই আবেগ, টান -টান উত্তেজনা, গল্পের শেষে কী হতে পারে, তা জানা সত্বেও সারুর কোয়েস্ট এর প্রতি দর্শকের অমোঘ আকর্ষণ। কিন্তু ভালো কাহিনি সত্বেও ‘লায়ন’ দুর্দান্ত সিনেমা নয়। ভালো সিনেমা হওয়া পর্যন্তই তার সীমারেখা। কারণ ছবির দ্বিতীয় অর্ধ।

প্রথমার্ধে সারুর জীবন, অপ্রতিকুল পরিবেশে তার বেঁচে থাকা, হারিয়ে যাওয়া, পাক খেতে থাকা এ সবই সিনেমাটি সমৃদ্ধ করেছে৷ কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে অস্ট্রেলিয়ায় পালক বাবা -মা’র সঙ্গে সারুর আবেগ ঘন দৃশ্যনির্মাণ যেন অনেকখানি আরোপিত। নিকোল কিডম্যান যে অভিনেত্রী হিসেবে বেশ শক্তিশালী তা বলার অপেক্ষা রাখে না এই সিনেমায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবারকে নিয়ে সে কি অখুশি ছিলো? এমন অনেক প্রশ্নের উওর দিতে পারেনি পরিচালক গার্থ ডেভিস।

ছবিতে দেব প্যাটেল ছাড়াও বেশ কয়েক জন ভারতীয় অভিনেতা -অভিনেত্রী রয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা বসু, নাওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি, তনিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায়, দীন্তি নাভাল৷ খুব স্বল্প সময় পর্দায় থাকলেও, তাঁরা বেশ বিশ্বাসযোগ্য। তাই সব মিলিয়ে ‘লায়ন’ অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল কিন্তু কিছুই জিততে পারেনি৷ কারণ ‘লায়ন’ এই সিংহ জঙ্গলের নয়।

এএমআর/সিনেটিভি