এ যে যৌবনকাল কামে চিত্ত কাল

469

নজরুল ইশতিয়াক

মূলত মহাকাল, কাল এবং সময় তিনটি মাত্রার মধ্যেই রয়েছি আমরা। কাল থেকে কালের রথে। জীবন নিজেও একটি সময়মাত্র। জীবনই বয়ে যাচ্ছে কালের ধারায়। কেউ কালকে বাহন করে কালের উর্দ্ধে মহাকালকে স্পষ্ট করে তোলে। কেউ কাল কাঁটায় কালের বশে। নিছক আসা-যাওয়ার খেলায়। কামরসের বেপরোয়া বেঘোরে পড়ে পিতৃধন হারিয়ে ফেলে। চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়, দেহ বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। আর এসবই ত্বরান্বিত হয় সঙ্গ- রঙ্গ দোষে।

সাঁইজীর এই গানটির শুধু একটি চরণের উপলব্ধি মানুষকে প্রকৃত সত্যমানুষে রূপান্তরিত করতে পারে। এক সুতোয় বাঁধা পড়তে পারে আদি মধ্য অন্তের সত্য। পৌঁছে যেতে পারে উৎসে, চলতে পারে সেই মোহনা ধরে।

প্রাকৃতিক ভাবেও মানুষের পরিবর্তন-বির্বতন-রূপান্তর সাধিত হচ্ছে। কিন্তু যথার্থ অর্থে কার্যকর মাত্রায় রূপান্তরিত হতে হলে সময়কে ধরতে হবে। সময়কে ধরা মানে সময়ের সাথে চলা। সময়ের বড় মূর্ত প্রকাশ হচ্ছে এই দেহ। জগত সংসারে দেহ রূপ সত্যের ঘরেই নিজেকে দেখতে হয়। সত্য কখনোই দূরে নয় বরং প্রতিটি মানুষই সত্য। অার দেহ রূপের পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে চিন্তার রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে। যার চিন্তা যেমন তার রূপ তেমন। সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ সবই জানা যায়।
কালের বশে কাল কাটলে জীবন জন্ম বৃথা। কোন বিশেষায়িত হওয়া হলো না, ধরা পড়লো না সত্য। হয়তো বড় বড় ডিগ্রি প্রাপ্তি হলো, পদ পদবী খ্যাতি জুটলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।

লালন ফকির মানব জন্মের কারণকেই সময় বলেছেন। জীবন নিজেও একটি সময়ের প্রতিবিম্ব। দেহ সেই সময়কে ধারন করে অাছে। সেখানে সবই অাছে যা অাছে জগত জুড়ে। সময়ের কাজটি সময়েই করতে হয়। এই মানব জন্মের গভীর সত্য অন্বেষণ করাই সময়ের কাজ। কি করছি, কি করে যাচ্ছি। সময়ের কাজটিই করতে হবে। চটকের ফাঁদে এই ঠকবাজারে মেতে থাকা যাবে না। সময় বলছে নিজেকে চেনো, দেখো। মায়া মোহে কার জন্য কি করছো। আত্মকর্ম বিশ্লেষণ করো, নিয়ন্ত্রণ করো নিজেকেই লক্ষ্য অভিমুখে যাবার জন্য।
সঠিক সময়ে নিজেকে ধরে ডুব দাও সেই সত্যে। সময় গেলে আর হবে না। সময়ই সত্য, সময়ই সাধনা, সময়ই কৃর্তি রেখে যায়। সময়ের সাথে থাকলে পরম সত্যে বহমান থাকে জীবন তরী। পরমানন্দে ভেসে চলে মহাকালের অধর ধারায়। সেখানেই জীবনের উপলব্ধি, প্রাপ্তির অপার সৌন্দর্য। সময়ই তো মানুষের সত্য।

জীবন তো একটাই, সময়কে ধরে সত্যের সাথে একাত্ম হয়ে চিরনতুন চিরন্তন হয়ে থাকায় তো পরম ধর্ম। বাকি তো ফাকি।

এএমআর/সিনেটিভি