এ প্রজন্মের ভাবনায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

319

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। যাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের দ্রোহ এবং প্রেমের কবি। তিনি তারুণ্যের কবি। কবিতায় অন্তর বাজিয়ে দরদের সুর সৃষ্টির কারিগর ছিলেন তিনি। স্বল্প সময়ের জীবনে লিখেছেন অসংখ্য কবিতা ও গান। তিনি প্রস্থান করেছেন কিন্তু বেঁচে আছেন তার কর্মে। তারুণ্যের বুকে বেঁচে থাকবেন হাজার বছর ধরে। আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এর ৬৪ তম জন্মদিন। জন্মদিনে এ প্রজন্ম তাকে নিয়ে ভাবছেন। চলুন দেখি তাকে নিয়ে কী ভাবছেন অনেকে-

বোহেমীয় স্রোতের পাদদেশে ভালোবাসা আর দ্রোহের এক আকণ্ঠ হিমালয়; এক চিরসবুজ গহীন তেপান্তরের অপর নামই রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’

– কবি নাজমুল ইসলাম সীমান্ত

রুদ্র শুধু কবিতা লিখতেন না, কবিতার ভেতরে যাপন করতেন। কবিতা যাপনের জন্য যতটা নিমগ্নতা দরকার তিনি তা কবিতায় ঢেলে দিয়েছিলেন। তার ভেতরের শিল্পীটার ছটফটানি, ডানা-ঝাপটানো তার কবিতায় পাওয়া যায়। একজন পুরোদস্তুর কবির মধ্যে যতটা সামাজিক, রাজনৈতিক দায়ভার থাকা দরকার তার মধ্যে সেই দায়ভার ছিল। আর ছিল শিল্পের অহংকারে পারিপার্শ্বিকের মাথা নত না করার দুঃসাহস।

– কবি হাসনাত নাগাসাকি

রাষ্ট্রের প্রতি একবুক অভিমান নিয়ে তাকিয়ে থাকা লোকটি রুদ্র। মূলত লোকটি প্রেমিক ছিল। আরও একটি বিষয় রক্তে খেলা করত, তা হলো কবিতা। সেই সাথে দলা দলা প্রেম বাধাগ্রস্ত হয়ে দ্রোহ সঞ্চারিত হয়েছিল। এসবের বহিঃপ্রকাশই তার কবিতা। রুদ্রহীন রাষ্ট্র স্বেচ্ছাচারিতার ঢেকুর তুলছে।

– গল্পকার ও লেখক মারুফ কামরুল

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সম্পর্কে বলতে গেলে অনেকগুলো নির্ঘুম রাত লাগবে। তারপরও শেষ হবে না। একজন রুদ্র হলো কবিতার জ্বলন্ত নক্ষত্র। যে নক্ষত্র বাংলা সাহিত্যে আলো ছড়িয়ে যাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী। রুদ্র একটা নেশা আমার কাছে। পড়তে বসলে মনে হয় ঝাঁঝালো ধোঁয়া লাগছে চোখে, মস্তিষ্কে, নিউরনে।

– গীতিকার ও কবি মাহমুদ শাওন

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। যিনি উপদ্রুত উপকূলে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন স্বর্ণগ্রাম। যেখানে মানুষের মানচিত্রে মৌলিক মুখোশ পরে ছোবল দেবে না কোনো ঘাতক। তিনি সামাজিক বৈষম্য, অপরাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যেমন লিখেছেন, তেমনিভাবে হৃদয়বৃত্তি, প্রেম ও বিরহ গাঁথা ফুটে উঠেছে তার কবিতায়। বাক্য এবং কর্মে তার যে সততা পরিলক্ষিত হয়, সেটি বর্তমান কবিতার জগতে বলতে গেলে বিরল। জন্মদিনে কবির প্রতি প্রণতি জানাই।

– কবি ও সম্পাদক জুলফিকার রবিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

‘রুদ্র — এক মহাকাব্যিক ইশতেহার।’

কবিতার নামে পৃথিবীর দেয়ালে যিনি এঁকে দিয়েছেন মানুষের আদল— মানুষের মানচিত্র। রুদ্র এক বিশাল সমুদ্র— প্রেম আর দ্রোহের জল যেখানে এক রঙা বয়ে চলে।

– কবি অ্যালেন সাইফুল

অনেক মানুষকেই বলতে শুনেছি রুদ্র মুহম্মাদ শহিদুল্লাহ ওভাররেটেড। আমার সেরকম মনে হয়নি। আমার কেবল মনে হয়েছে এই মানুষটা কবিতা না লিখলে, আমার কবিতা পড়ার বা লেখার আগ্রহ তৈরি হতো না। জীবনানন্দের প্রতি প্রেম তৈরি হওয়ার যে পথ, সেখানে আসতে হলে আমাকে আগে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে পাড়ি দিয়ে আসতে হয়েছে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে এখনও বাংলাদেশের যত মানুষ পড়ে বা ভালোবাসে, ওই উচ্চতায় আর কেউ যেতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না। মানুষ কি বলে আমি তা ভাবি না, কারণ মানুষ হুমায়ূন আহমেদকেও সস্তা লেখক বলে থাকে। রুদ্রকে নিয়ে বলতে গেলে শুধু বলতে হয়, শহরের সমস্ত পায়ে হাঁটা পথ, প্রেমিকার বুক কিংবা সাকুরা থেকে শাহবাগ পেরিয়ে রুদ্র কেবল হৃদয়ে থাকার মানুষ। ব্যক্তিগত জীবন পেরিয়ে আগামী বসন্তেও সে যেন যৌবনের ফুল।

– জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুদ্রনীল আহমেদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। নাম এবং ব্যক্তিত্ব দুটোই যে কোনো তরুণ তরুণীর কাছে যেমন আকর্ষণীয়। তেমনি প্রবীণদেরও কেউ কেউ কাটাতে চেয়েছিলেন তার মতো জীবন। যদিও সেটা পড়ে শুনে যতটুকু জানা যায়, তার পথ অতটা মসৃণ ছিল না।

– কবি উদয়ন রাজীব

– কবি চৌধুরী ফাহাদ এক বাক্যে রুদ্র সম্পর্কে বললেন, ‘রুদ্র আমার ভাই লাগে।’

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই আমার যা মাথায় আসে- প্রতিবাদী কণ্ঠ, ভালোবাসার রূপকার। তিনি একাধারে বাংলা সাহিত্যে প্রেম আর দ্রোহের কবি। তিনি তার কবিতার মাধ্যমে খুবই সূক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ভালোবাসার তীব্রতা এক প্রতিবাদী কণ্ঠে। বাংলা গানের মাধ্যমেও তিনি যেন এখনও বেঁচে আছেন আগের মতই সরলতার প্রতিমা হয়ে। খোলা আকাশের ঠিকানায় মাতাল প্রেম নিয়ে চিঠি লিখি বা না লিখি, কানে ঠিকই বাজে রুদ্রের- ‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’

– নাজমুল হক সজল

দৈনিক অধিকার

রুদ্রকে নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষা আমার নেই। শুধু জানি, তার কবিতায় যে প্রেম আছে তাতে বেশ বুঁদ হয়ে থাকা যায়, মায়ার মতো সেই মোহ, টেনে ধরে রাখে বহুক্ষণ। প্রিয় কবি, কবিতার মতো প্রিয় তার নাম।

– কবি লুফাইয়্যা শাম্মী,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

রুদ্র!

তুমি যে শুধু প্রেমেরই প্রতিশব্দ!

নিখিল এ ভুবনে

প্রেম ভাইরাস ঢুকিয়ে সবার মনে

তুমি কেন আকাশের ঠিকানায়

হয়ে আছো অবরুদ্ধ!

বিরহে তোমার

কি শুধু এক তসলিমা জ্বলে?

সব প্রেমিকা মনও যেন জব্দ!

– কবি ডাক্তার র ন্ জু খা ন

আধুনিক বাংলার কালজয়ী কবি, দ্রোহের কবি, রোমান্টিক প্রেমের তারুণ্যের অহংকার ছিলেন রুদ্র মুহম্মাদ শহিদুল্লাহ। তার কবিতার ভেতর যে রকম সমাজের নির্বিচার, চাটুকারিতার প্রতিবাদ, নারী স্বাধীনতা, ধর্ষিতার আর্তনাদের কথা তুলে উঠেছে,তা আজ অব্দ কোনো কবির লেখায় এরকম প্রতিবাদ উঠে আসেনি। এদেশে সমাজে অন্যায়, অত্যাচারের প্রতিবাদ ছিল রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কবিতার ভিতর। তার কবিতা সমাজের হয়ে কথা বলেছে। নজরুলের যুগের পর পরবর্তী কোনো বিদ্রোহী বা দ্রোহের কবির স্থানে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লার অবস্থান ছিল এদেশের মানুষের মুখে মুখে। তার বিষাদ, প্রেম, বিদ্রোহ আজও এ দেশের জন্য বারবার দরকার। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রতি রইল আমার সর্বোচ্চ বিনম্র শ্রদ্ধা।

‘শুভ জন্মদিন রুদ্ধ, বেঁচে থাকবে এদেশের প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে।’

– বার্তা সম্পাদক আদিল সাদ

ক্যানভাস প্রকাশনী

কবিতায় যিনি এঁকেছেন সময়ের বিরহ, শতাব্দীর যন্ত্রণা। দ্রোহ ও প্রেম উঠে এসেছে যার কবিতায় তিনি বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শক্তিশালী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। সময়ের সংকট ও প্রেমের নিখাদ চিত্র অঙ্কনকারী এ কবির আজ জন্মদিন। জন্মদিনে কবিকে জানাই শুভেচ্ছা।

– কবি জাহিদ আল হাসান

শিক্ষার্থী, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়