সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল অনূদিত বিভিন্ন ভাষায় লেখা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা।

310

বিশ্ববন্ধু ][ রাম কুমার
পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে আতঙ্কিত হই
পাশের বাড়িতে রান্না হলে সুবাস পাই,
নেবুফুল ফুটলে ভেসে আসে মিষ্টি বাতাস।
পাশের বাড়িতে পতাকা উড়লো, মুগ্ধ হলাম
মাটির হিমালয় থেকে দাঁড়িয়ে দেখলাম মানব হিমালয়!
এবং প্রতিবেশি বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন বিশ্ববন্ধু।
পাশের বাড়িতে রক্তখুন; কেঁদেছিলো কাঠমন্ডু
একটি বুলেট নেপালের জানালা ভেঙে
আহত করেছিলো রাজবাড়ি।
(নেপালি ভাষায়)
…………………………………
এজমালিক ][ লায়লা জিয়াঈ
জগতের খ্যাতিনাম মানুষেরা এক একটি বৃক্ষ।
এক একটি আকাশ,
এবং একাধি চাঁদ।
গ্যালিলিও, গান্ধী, ম্যান্ডেলা, তেরেসা,
শেক্সপিয়র কোনো দেশের, বিশ্বের।
শেখ মুজিবও সবার এজমালিক।
(ফারসি ভাষায়)
…………………………………
কানাডায় খুনি ][ সামুয়েল নেগাশ
আমি এসেছি আফ্রিকার থেকে
তুমি এসেছো ভারত-বাংলাদেশ থেকে
তারা এসেছে পানাম-পর্তুগাল থেকে।
কানাডিয়ান ফুলদানিতে সৌন্দর্যে ফুটে থাকি
শান্তিতে, শীতেও ছড়াই সৌরভ।
ভালো কানাডায় খারাপ খুনি-
কেনো আমাদের সৌরভে দুর্গন্ধ ছাড়বে!
(টিগ্রিগনা ভাষায়)
…………………….
বাংলাদেশ, আমায় মনে রেখো ][ রাশান ক্রেস্তোভস্কি
জ্যা কুয়ে, ওডারল্যান্ড এবং জুয়েনকা বাঙালি নয়, মানুষ।
তাই তারা মানুষের পক্ষে বন্যদের বিরুদ্ধে তীর ছুঁড়েছে।
তারা শুনেনি- শেখ মুজিবের ভাষণ, জানে না বাংলা…
তবু গেয়ে উঠছিলো- জয় বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা।

চট্টগ্রামে এক নৌযুদ্ধে মাইন অপসারণে আহত জুয়েনকা
দুর্দিনে ভাতের থালার মতো সাহায্যের হাত পেতেছিলো।
অজুহাত ছিলো- ‘কোনো বিদেশিকে সাহায্যের তহবিল নেই।’
প্রত্যাখিত রাশান মুক্তিযোদ্ধা হিমঘরে যায় বিনা চিকিৎসায়।

বঙ্গবন্ধু মুজিব থাকলে কাছে ডাকতেন, বুকে জড়িয়ে নিতেন-
‘বাংলাদেশ, রিমেম্বার মি’ বইটি পড়তে পড়তে গাইতেনঃ
আমরা তোমাদের কোনোদিন ভুলবো না; ভুলবো নাতো যুদ্ধঋণ,
তোমরা এ ফুল! তোমরা আমাদের ইসিহাসের অংশ!
(রাশান ভাষায়)
…………………………………
শেখ মুজিব ][ চেন শুই-চেন
গানের জন্য সুরকারের সুর দরকার,
শিল্পীর দরকার।
প্রতিটি নির্যাতিত জাতির জন্য,
প্রতিটি নিপীড়িত দেশের জন্য
দরকার এক একটা শেখ মুজিবর।
(ম্যান্ডারিন ভাষায়)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল