বিরোধীদের সকল আন্দোলনের আড়ালেই ষড়যন্ত্রের উল্লাস

310

জাহিদ হোসেন

বিরোধী রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের গতি প্রকৃতি সিদ্ধান্ত পরিকল্পনা দেশ উন্নয়নে মন্ত্রী পরিষদ সমূহের যাবতীয় কর্মপন্থা বাস্তবায়নে মূলত প্রধান বিরোধী দলকেই জাতীয় সংসদে সঠিক ও অর্থবহ আলোচনা সমালোচনাসহ জনগণের সেবা এবং দেশের সমাজ অর্থনীতি রাজনীতি বিদেশনীতি আইনকানুন এর বাস্তবায়নে বা পরিবর্তনে বা সংযোজনে বা বিয়োযোগে রাজনৈতিক পটভূমিকায় মূলত ছায়া সরকারেরই ভূমিকা পালনে ভূমিকা রাখতে হয়। এটাই বিরোধী দলের ও সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র।

অথচ আমরা দেশে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্যতীত অধিকাংশ রাজনৈতিক দল গুলোর বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক আচার আচরণে এখনও কি দেখে আসছি ? অপরাজনীতি অপপ্রচার অসহযোগিতা হত্যা সন্ত্রাস মাদকাসক্ত ধর্ষণাচারনের মতো সমাজ বিবর্জিত ধীকৃত কর্মকাণ্ড কেন্দ্রিক অপরাজনীতি। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মীমাংসিত বিষয়ে জনগণের মননে নানান ভ্রান্ত ধারনা প্রতিষ্ঠিত করে এক স্থায়ী বিতর্কের সৃষ্টির অবতারণাসহ জনপ্রশাসনিক কর্মযোগে সততা ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পথ প্রদর্শনের যাবতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নের তৎপরতায় ব্যর্থতা।

দেশে অনাহূত যে কোন ঘটনাকে ইস্যু করে লন্ডনের হাওয়া ভবন থেকে অর্থের ও যতসব কূটকচালির যোগানের মাধ্যমে দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর সহায়তায় কিছু পেইড কুলাঙ্গার আদর্শহীন অপশিক্ষিত কর্মী বাহিনীর জামায়াত শিবির বিএনপি এবং তথাকথিত বাম সংগঠন গুলো একের পর এক অপরাজনীতির পরিপ্রেক্ষিত সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

এসকল কর্মকাণ্ডে এটাই প্রমাণিত করে যে মেরুদণ্ডহীন এই সকল অপরাজনৈতিক দল গুলো আঙুলের ধারালো নখ, দাঁত, জিহ্বা ব্যবহার করে নংরামির অপরাজনীতি ও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টিতেই নিজেদের সার্থকতা ও ক্ষমতার ঘ্রাণ গ্রহণের অপচেষ্টা প্রতিনিয়তই নির্লজ্জের মতো করে যাচ্ছে মাত্র। দেশের সমাজে এদের চেয়ে যৌনকর্মীদের চরিত্র আদর্শ উদ্দেশ্য অনেক অনেক উন্নত ও শ্রেয়।

এ সকল অপরাজনৈতিক দল গুলোকেই মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মূল স্তম্ভ সমূহের উপর অনাস্থা অনীহা প্রকাশ করতে দেখি।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক ও অপরাজনীতির অপপ্রচার অপপ্রয়োগ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এই সকল তথাকথিত বিরোধী দল গুলোর রাষ্ট্রের ভিত্তি, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামো সমূহকে দূর্বল করার অপপ্রয়াস দেখি।

যে কোন রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার মূল সক্ষমতা যোগ্যতা উপযোগিতা উপযুক্ততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কূটনৈতিক পারদর্শিতা জনপ্রশাসন পরিচালনাসহ দেশের অর্থনীতি অবকাঠামো ও জনজীবনের মান উন্নয়নে সরকারের মেয়াদকালীন পরিকল্পনা, একই সাথে বিশ্বের যাবতীয় আন্তর্জাতিক ফোরাম গুলোর সাথে সমঝোতা ও নিয়মনীতি মেনে দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রের মডেলে প্রতিষ্ঠিত করার একটি রাজনৈতিক দলের দক্ষতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যদি না সেই রাজনৈতিক দলের সঠিকভাবে ও গণতান্ত্রিকভাবে বিরোধী দলের হয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনীতির প্রজ্ঞা এবং ছায়া সরকারের কার্যনির্বাহ করার অভিজ্ঞতা দক্ষতা না থাকে।

ফলে স্বাধীনতা উত্তর আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কালপ্রবাহে আমরা বিএনপি জামায়াত শিবির এমনকি কিছু বাম ভাবধারার দল গুলোর বিরোধী দলের হয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় যে অদক্ষতা অপারদর্শিতা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এদের দলীয় আদর্শ নীতি ও দায়বদ্ধতা দেখেছি তাতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আদর্শিক বিরোধী দলের যোগ্যতাও একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাড়া অন্য একটি রাজনৈতিক দলেরও সেই যোগ্যতাটুকু নেই। দীর্ঘ চল্লিশ কি সত্তর বছরেও তা অর্জন করতে পারেনি। আমার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি পারবেও না।

বর্তমানে সংসদের ভিতরে বাইরের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর এই হচ্ছে প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার অবস্থা ! যার প্রতিফলনে দেশের অনাকাক্ষিত বা দুর্বিপাকের যে কোন ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার হাতিয়ার হিসেবে অপরাজনীতি করার জন্য নিজেদের দলের একমাত্র রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবলম্বন বলে মনে করে। আর এই যদি হয় বর্তমান বিরোধী দল গুলোর অবস্থা ! অতঃপর রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক আদর্শিক মননের বিতর্কিত ভূমিকা। যা অদূরবর্তীতে এদেশে তাদের সকলকে ধর্মীয় অনুভূতির রাজনৈতিক পথে ধাবিত করবে। কারণ এ সকল রাজনৈতিক দল গুলোর আর গণতান্ত্রিক আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চার দলীয় মনোবৃত্তিতে কোন অস্তিত্বই থাকবে না।

তাই সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুতেই অর্থবহ করে তুলতে পারছে না নিজেদের। এখানেই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

ফলে আমরা প্রতি বছর অন্তর দেখি মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের আন্দোলন, কখনও অনাকাক্ষিত বা পরিকল্পিত সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, করোনা মহামারী নিয়ে অপরাজনীতি আন্দোলন, একইভাবে ধর্ষকের শাস্তি দাবিতে আন্দোলন। অথচ এর বাইরেও যে একটি দেশের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দল গুলোর আদর্শিক এবং প্রজ্ঞাবান রাজনীতির পথ পড়ে আছে, সেই দিকটিতে রাজনীতি করার যোগ্যতা আজও তারা নিজেদের দল ও দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে প্রতিফলিত করতে পারেনি এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আদর্শিক বাংলাদেশে পারবে বলেও আমি বিশ্বাস করি না।

আগামীতে এ সকল রাজনৈতিক দল গুলোর মূল রাজনীতি প্রবাহ চলবে অনাহূত কোন ঘটনা কেন্দ্রিক অপরাজনীতি, হত্যার ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অপরাজনীতি। এটাই এ দেশের সকল বিরোধী দল সমূহের পথ ও পাথেও হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের এসকল বিরোধী দল গুলোর গণতান্ত্রিক আচরণের এমনই যদি প্রতিফলন প্রতিষ্ঠিত থাকে, তাহলে একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দলের বারবারই দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন অবধারিত। বিশ্বে ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে এমন উদাহরণ দৃশ্যমান, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই।

লেখক:
চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিচালক ও সংগঠক।
(প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র লীগ) ।।