নদী কিংবা দুঃখ

220

অতএব নদীটিকে আমি কিনে ফেললাম,
কেননা জলের প্রতি পক্ষপাতে সাগরটাই একদিন আমার হবে।

শৈশবে বাবার কাছে একদিন সমুদ্র চেয়েছিলাম,
বাবা আমায় সূতি নদীর ঘাটে দাঁড় করিয়ে বলেছিলেন-
“সমুদ্দুর এরচেয়ে মেলা বড়”
সেই থেকে সূতিকে আমি সাগরবোন বলে জানি।

সেদিন সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে ঠিক বাবাকেই মনে পড়েছিলো-
-বাবা আমার মিথ্যা বলেনি!
সমুদ্দুর মেলা বড়,ঠিক বুকে লাগা ক্ষত’র মতো।

আমার যেমন জলের প্রতি পক্ষপাত,
বাবা তেমন সুন্দরের পক্ষপাতী ছিলেন।
ঈষৎ কালো চেহারার বাবা রূপশ্রী মা’ কে আকাশ লিখে দেন।
আমিও ঠিক বাবার মতো নদীটিকে ভালোবাসি।

মাকে আমার মনে পড়ে বেশ!
বাবার অবয়বে মায়ের অভাব ঢের সাগর চিনিয়ে দেয় আমায়।
কায়দা বিলে মাছ ধরে ঘরে ফেরা বাবাকে একদিন বলেছিলাম-
নিজে কালো বলেই সুন্দর মা’কে এতো ভালোবাসো,তাই না?
বাবা সেদিন স্বভাবসুলভ মুচকি হেসেই চুপ।
আমি এখন মা কিংবা বাবাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সুন্দরে সংজ্ঞায়িত করি।

অর্ধযুগ পড়ে বাবা হিমালয় বুকে ধরে বলেন-
তোমার মায়ের মতো কাউকেই দেখিনা!

আমি সেদিন সূতি নদী কিংবা কায়দা বিলটাকে চোখে ধারণ করে নিলাম।
বাবার চোখের কোণে সাগর দেখে-
আমি পণ করেছিলাম-জল কিংবা নদী সকলই আমার হোক।

এখন আমি সাগর,নদী কিংবা জলের নামকরণে অভ্যস্ত।
জলের সখ্যতায় নিপুণ পরিপাটি জলধি আমি।

আমার বুকের বাঁ পাশটায় ইচ্ছে হলেই নদী রাখি,ইচ্ছে হলেই পাহাড়।
সাগরটাকে চোখেই রাখি,আর তোমায় রাখি নীলে।
আমি এখন নদীটাকে দুঃখ বলি,জলকে অশ্রু ডাকি।

মাজহার লালন