ধর্ষণবন্ধে “দ্রুততম বিচার ট্রাইবুনাল” গঠন করা হোক

302

লজ্জায়, রাগে, দুঃখে এবং ক্ষোভে আমি আমার গতকালকের পোস্টে ধর্ষকদের ক্রস-ফায়ারে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেছিলাম।
তাতে বিচার-বহির্ভুত হত্যাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে মর্মে কিছু মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
তাই দেখে আমি পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা প্রস্তাব করছি — যাতে বিচার বহির্ভুত হত্যার অভিযোগ থেকে বিষয়টি মুক্ত হয় কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
আমি “দ্রুত বিচার ট্রাইবনালে”র আদলে একটি “দ্রুততম বিচার ট্রাইবুনাল” গঠন করার প্রস্তাব করছি।
এই ট্রাইবুনালে যে এলাকায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটবে — ১। সেখানকার স্থানীয় পুলিশ ২। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং ৩। RAB-এর একটি টিম ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করবে।
এক সপ্তাহের মধ্যে তাদর তদন্ত রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টিম প্রাপ্ত রিপোর্টগুলি নিয়ে বসবেন এবং যথাযথ পর্যালোচনা করে ধর্ষেণের দায়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন এবং রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের শাস্তি কার্যকর করবেন।
এই লক্ষ্য পূরণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি অর্ডিনেন্স জারী করতে পারেন।
আমাদের সমাজজীবনে ধর্ষণ যেহেতু একটি চলমান অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির ঐ অর্ডিনেন্সটি পরে জাতীয় সংসদে পাশ করিয়ে নেয়া যেতে পারে।
ধর্ষকের শাস্তি কী হবে, কী হওয়া উচিত,
তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “তিন কমিটি”র সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবেন।
আমাদের প্রিয় জন্মভূমি, বাংলাদেশ ধর্ষকদের কব্জা থেকে মুক্ত হোক– এই আমার একান্ত প্রার্থনা।

কবি নির্মলেন্দু গুণ