প্রেমের গল্প। নির্মেলন্দু গুণ

316

মেয়েটি বললো, শোন, আমার নাম হলো সীমা। এর অর্থ বুঝেছো নিশ্চয়ই। আমি শেষবারের মতো তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি– তুমি সীমা লংঘন করার চেষ্টা করো না।
মেয়েটির কথা শুনে ছেলেটি হো-হো করে হাসলো। মেয়েটির খুব রাগ হলো তাতে।
বললো– হাসলে কেন? হাসলে কেন? কেন হাসলে?
তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি।
যে জায়গায় এসে ছেলেরা রণে ভঙ্গ দেয়, ঠিক ঐ জায়গাটায় দাঁড়িয়ে তুমি হো-হো করে প্রেমানন্দে হাসছো!
কোনো দাগী গুন্ডা-বদমাশ নও তো তুমি?
দুই হাতে নিজের দুই কান ধরে ছেলেটি বললো, ছি ছি! কী যে বলেন! আমি একটা ভীতুপ্রকৃতির মানুষ।
গুন্ডা-বদমাশ হলে কি আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আমার পা কাঁপতো? দেখুন, আমার হাত-পা কেমন কাঁপছে।
মেয়েটি বললো– হ্যাঁ, তাও তো কথা। তবে হাসলে যে? বুকে সাহস না থাকলে তো মুখে এমন হাসি আসে না।
তোমার এতো সাহস আসে কোথা থেকে?
ছেলেটি বললো, আমি কি সত্য কথা বলবো?
মেয়েটি বললো, সত্য বলবে না কি মিথ্যে বলবে?
বলো, সত্য কথা খারাপ হলেও আমি শুনতে ভালোবাসি।
তাড়াতাড়ি বলো।
ছেলেটি বললো, তো বলেই ফেলি।
বলেই ফেলি মানে? না-বললে আমি তোমায়
ছেড়ে দেবো ভেবেছো? তাড়াতাড়ি বলো,
আমি আবার বিলম্বের চাপ সইতে পারি না।
ছেলেটি বললো, আমিও পারি না।
তুমি পারো না মানে? কী পারো না?
আমিও বিলম্বের চাপ সইতে পারি না।
তোমার সাহস দেখে আমি কেবলই অবাক হচ্ছি।
আমার না-পারা আর তোমার না-পারা কি এক হলো?
ছেলেটি বললো, না-না, তা হবে কেন? কোথায় আপনি আর কোথায় আমি।
আসলে মুখ ফসকে বেরিয়ে গ্যাছে কথাটা। প্রেমে পড়লে যা হয় আর কি!
আপনার প্রথম নির্দেশটা আমার খুব মনে ধরেছে,
কথাটার মধ্যে আমি অভয় পেয়েছি, তাই হাসলাম।
ততক্ষণে মেয়েটি তার প্রথম নির্দেশটি ভুলে গেছে।
বললো, আমার প্রথম নির্দেশটি যেন কী ছিলো?
ছেলেটি বললো, আপনি আমাকে সীমা অতিক্রম
না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পরামর্শ? পরামর্শ শব্দটা তো খুবই নমনীয়।
আমি আপনাকে সাবধান করে দিয়েছিলাম।
অনেকটা সেরকমই মনে হয়েছিলো বটে!
আপনার ঐ কথাটা ছিলো আমারও মনের কথা।
মেয়েটি বললো, হ্যাঁ, এখন মনে পড়েছে।
কিন্তু আমার ঐ-কথাটা তো খুশির কথা ছিল না!
ঐ-কথাটা আপনার মনের কথা হলো কী করে?
আপনি তো দেখছি বড়ই নাছোড়বান্দা মানুষ।
ছেলেটি বললো, তা মিথ্যে নয়।
সত্যটা হলো এ-ই,
সীমা লংঘন করার জন্য
আমি সীমার কাছে আসিনি।
সীমা লংঘন করার গোপন বাসনা যদি নাই থাকে– তো বকুল ফুলের মালা নিয়ে
আমার পেছনে এমন ঘুরঘুর-ঘুরঘুর করছেন কিসের জন্যি?
শুকিয়ে-যাওয়া বকুল মালাটি মেয়েটির হাতে
সন্তর্পণে সমর্পণ করে ছেলেটি বললো, আমি সরাজীবনের জন্য
তোমার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে এসেছি, হে প্রিয়দর্শিনী, প্রিয়ভাষিণী।
মেয়েটির রুদ্রচোখের তারায় তখন কী যেন একটা অমূর্তপুলকের ঝিলিক খেলে গেলো।


কামরাঙ্গীর চর

২৪/০৯/২০