তিশা এবং তিনটা চলচ্চিত্র

221

নুসরাত ইমরোজ তিশা অনেক বেশি পছন্দের একজন অভিনেত্রী। মিডিয়াতে নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হলে ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মধ্যে আমার পছন্দের তিনটি চলচ্চিত্র নিয়ে আজ আলোচনা করবো।

নো স্পয়লারঃ

থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। (2009)

আইএমডিবিঃ 7.1/10

“থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার” ছবিটা
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র পরিচালনায় ২০০৯ সালে মুক্তি পায়।

রুবা, যে কিনা জীবন যুদ্ধে সংগ্রামরত একা একটা মেয়ে। এই সমাজে টিকে থাকার লড়াইয়ে নানা পন্হায় তাকে চলতে হয়।
।তার একটা অতীত আছে,সেই অতীতের গর্ভে তার ভবিষ্যতের বীজ। তার অতীত তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়, আর ভবিষ্যত কে নিয়ে সে আছে দ্বিধায়। “রুবা” চরিত্রে তিশা দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন।

‘রুবা’ চরিত্রের জন্য সেই বছর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসাবে “মেরিল-প্রথম আলো” সমালোচক পুরস্কার লাভ করেছিল তিশা।

হালদা (2017)

আইএমডিবিঃ 8.2/10

তৌকির আহমেদ পারিচালিত “হালদা” ছবিটা নদী ও নারীর গল্প নিয়ে আবর্তিত।
আজাদ বুলবুলের কাহিনীতে চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন তৌকীর আহমেদ।

ছবিতে তিশা অভিনীত চরিত্রের নাম ‘হাসু’ যে কিনা এক অসহায় জেলের মেয়ে। নদীর ঢেউ আর তার জীবনের রং বদালান প্রায় একরকম।

সমাজের বাস্তবতায় নারীদের নিজস্ব কোন স্বপ্ন, আশা থাকলে ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা গিলে ফেলতে হয়। কেউ জানেনা নোনা জলে কতো ছবি আঁকা থাকে। ‘হাসু’ চরিত্রটা এমন ছিলো।

‘হাসু’ চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ সেইবছর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার” লাভ করে তিশা।

মায়াবতী (2019)

আইএমডিবিঃ 6.6/10

মায়াবতী ২০১৯ সাল মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ইয়াশ রোহান। চলচ্চিত্রটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী।

এই ছবির মাধ্যমে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা প্রথম কোনো চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিতে তার মায়া নামনুসারে ছবির নামকরণ করা হয় “মায়াবতী”।

মায়া, যে কিনা ছোটবেলায় চুরি হয়ে যায় এবং তার ঠাঁই হয় যৌনপল্লীতে । পরে ভয়ংকর এক খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে মায়া। ‘মায়া’ চরিত্রে তিশার অসাধারণ অভিনয় পর্দায় তাকে সত্যিকারের মায়াবতী করে তুলেছিলো।